\ চীনকে রুখতে পারবে ভারত | Bangla Photo News
Friday , May 25 2018
Homeআন্তর্জাতিকচীনকে রুখতে পারবে ভারত
চীনকে রুখতে পারবে ভারত

চীনকে রুখতে পারবে ভারত

বাংলা ফটো নিউজ : চীন সীমান্তে রেললাইন স্থাপনের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ ২০১৯ সালের মধ্যেই শেষ করতে চাইছে ভারত। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভার কমিটি এই অনুমতি দিয়েছিল। ৩৭৮ কিলোমিটারের মিসামারি-তেঙ্গা-তাওয়াং লাইন, ২২৭ কিলোমিটার পাসিঘাট-তেজু-রুপাই লাইন ও ২৪৭ কিলোমিটার নর্থ লক্ষ্মীপুর-বামে-সিলাপাথার লাইনের সমীক্ষা চালানোর জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছ থেকে রেলওয়ে ৪৭.১৮ কোটি টাকা পেয়েছে।

নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্তা এ কে যাদব জানিয়েছেন, আমরা পসিঘাট-তেজু-রুপাই লাইনের সমীক্ষার কাজ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করার টার্গেট নিয়েছি। আর অপর দু’টি লাইনের সমীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। তিনটি লাইনই অত্যন্ত জটিল এলাকায়। পুরো এলাকাটি উঁচু পর্বতমালায় ঘেরা। মিসামারি-তেঙ্গা-তাওয়াঙ লাইনটি ১৪ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত। তিনি বলেন, আমরা গোটা বছরই কাজ করছি। এমনকি বরফ পড়ার সময়ও কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে না। তিনটি লাইনের কিছু অংশ আসাম ও অরুণাচলেও পড়েছে। আর আরো একটি লাইন জম্মু ও কাশ্মীর দিয়ে চলে গিয়েছে। এই রেললাইনটি হতে চলেছে, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেলপথ। এর উচ্চতা ৩,৩০০ মিটার এবং ৪৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি হবে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ রেললাইন। এটি চীনের কিংঘাই-তিব্বত রেলওয়েকেও ছাড়িয়ে যাবে। চারটি রেললাইন সম্পন্ন করতে ব্যয় হবে ২.১ লাখ কোটি টাকা। এই চারটি ‘অগ্রাধিকাপ্রাপ্ত’ লাইন হবে ১৪টি কৌশলগত লাইনের অংশবিশেষ। ২০১০ সালের নভেম্বরে চীন ও পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় মোট ২৮টি রেলওয়ে লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নীতিগতভাবে অনুমাদন করা হয়েছিল। এই চারটি লাইন তারই অংশ।

এদিকে ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে চীনের পানিপথে চলাচল পর্যবেক্ষণ করতে নৌবাহিনী মোতায়েন করা হবে। বর্তমানে আন্দামান ও নিকোবর আইল্যান্ডে মোতায়েন সুখোই-৩০ জঙ্গি বিমান ওই এলাকার ওপর টহল দিতে পারবে। গত বছরের জুলাইয়ে বঙ্গোপসাগরে ভারত নৌবাহিনী মোতায়েন শুরু করেছিল। তাদের দায়িত্ব ছিল বঙ্গোপসাগরের আন্দামান ও নিকোবর আইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্টের জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করা। এরপর থেকে সান্ডা, ল্যামবক ও ওমবাই ওয়াটারে টহল শুরু হয়েছে। এসব প্রণালী ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরের মধ্যে সংযোগ করেছে। মালাক্কা প্রণালী দিয়েই বিশ্বের ৭০ ভাগ বাণিজ্য ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়ে থাকে।

চীনের আগ্রাসী অবস্থান মোকাবিলায় ক্যাম্বেল বে, কার নিকোবর ও পোর্ট ব্লেয়ারকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে ১৯টি রণতরী ও দু’টি ভাসমান ডক মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে বিশাখাপত্তম থেকে সেখানে পৌঁছানোর জন্য ১,২০০ কিলোমিটার পথ বেঁচে গিয়েছে। এই পানিপথে কেবল রণতরীই নয়, যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হচ্ছে। এগুলো প্রয়োজনে দক্ষিণ চীন সাগর পর্যন্ত উড়ে যাবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব মতে, চীনের প্রায় ৮০ ভাগ তেল আমদানি করা হয় মালাক্কা প্রণালী দিয়ে। এই প্রণালী দিয়ে তাদের ১১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাসও আমদানি করা হয়ে থাকে। সেখানেই এবার নজরদারি চালাবে ভারত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*