\ দুই জনপ্রতিনিধির মূল ব্যবসা ইয়াবা | Bangla Photo News
Friday , October 19 2018
Homeঅন্যান্যদুই জনপ্রতিনিধির মূল ব্যবসা ইয়াবা
দুই জনপ্রতিনিধির মূল ব্যবসা ইয়াবা

দুই জনপ্রতিনিধির মূল ব্যবসা ইয়াবা

বাংলা ফটো নিউজ : রাকিব আহমেদ ও বখতিয়ার আহমদ দুজনই জনপ্রতিনিধি। কক্সবাজার থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবা সরবরাহ করেন তাঁরা দুজন। রয়েছে নিজস্ব বিতরণকারী। গাড়িতে করে এদের দিয়ে চাহিদামতো ইয়াবা পৌঁছে দেন ক্রেতাদের কাছে। দুজনেই জনপ্রতিনিধি। এরই আড়ালে চলে তাঁদের ইয়াবা ব্যবসা।

ইয়াবা ব্যবসায়ী দুজন হলেন টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রাকিব আহমেদ এবং উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদ। বখতিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আর রাকিবের কোনো পদবি না থাকলেও স্থানীয় সাংসদের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এরই মধ্যে ইয়াবা সরবরাহে ব্যবহৃত তাঁদের দুটি গাড়ি আটক করেছে। উদ্ধার করেছে তাঁদের মালিকানাধীন দুই লক্ষাধিক ইয়াবা।

এলাকাবাসী জানান, ২০০৮ সালের দিকেও রাকিব রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসকের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। ইয়াবা ব্যবসা করে তিনি রাতারাতি বড়লোক বনে যান। ২০১৬ সালে বিপুল অর্থকড়ি খরচ করে ইউপি নির্বাচনে অংশ নেন। আর বখতিয়ার একসময় উখিয়ার রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকে বিভিন্ন জিনিসপত্র জোগান দিতেন। রাকিব ইউপি সদস্য হওয়ার আগে দুবার ইয়াবাসহ পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হন। বখতিয়ার ইউপি সদস্য হওয়ার পরও একবার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে এসে তাঁরা আবারও এই ব্যবসা শুরু করেন।

জানতে চাইলে র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরোয়ার বিন কাশেম বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানতে পেরেছেন এই দুই ইউপি সদস্য এখন ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম। তাঁরা দুজনে একত্রে ব্যবসা করেন। তাঁরা নিয়মিতই রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় ইয়াবা পাঠান বলে তাঁদের কাছে তথ্য আছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি-ব্লকের ১৫০ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেন র‍্যাব-১-এর সদস্যরা। ওই বাসার গ্যারেজে রাখা সাদা রঙের একটি হাইএস গাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল আরও এক লাখ ইয়াবা। এই ঘটনার এক মাস পর গত ২৫ মার্চ উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে একটি কালো মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো চ ১৫-৬৬৫২) আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে ওই গাড়ি থেকে প্রায় ৭৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এই দুই ঘটনায় গ্রেপ্তার নয়জন জিজ্ঞাসাবাদে জানান, গাড়ি এবং ইয়াবার মালিক রাকিব ও বখতিয়ার। তাঁরা চালান নিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন ক্রেতাদের সরবরাহ করার জন্য।

উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওসি মো. মাকসুদ আলম বুধবার বলেন, বখতিয়ার মাদকের মামলায় এখন কারাগারে আছেন। আর রাকিব আহমেদ মুঠোফোনে  কাছে দাবি করেন, তিনি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট নন। হোয়াইক্কং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে ফাঁসানোর জন্য এসব অভিযোগ এনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*