\ মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক গ্রেফতার | Bangla Photo News
Tuesday , November 13 2018
Homeআন্তর্জাতিকমালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক গ্রেফতার
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক গ্রেফতার

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক গ্রেফতার

বাংলা ফটো নিউজ : দুর্নীতির অভিযোগে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ ও দেশটির দুর্নীতিবিরোধী কমিশনের কর্মকর্তারা। মালয়েশিয়ার ইংরেজী দৈনিক দ্য স্টার এর অনলাইন সংস্করণে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল তিনটার দিকে কুয়ালালামপুরের লাঙ্গাকদুতা এলাকার বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশটির দুর্নীতিবিরোধী কমিশন গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছে।

আগামীকাল বুধবার নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হতে পারে বলে জানা গেছে। গ্রেফতারের পর তাকে দুর্নীতিবিরোধী কমিশনের কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। নাজিব রাজাক ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) অর্থ আত্মসাৎ করে নাজিব নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছিল। যদিও নাজিব এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গত নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে দীর্ঘ ছয় দশক ধরে মালয়েশিয়াকে শাসন করে আসা দল ইউএমএনও। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটি হেরে গেছে এই দলেরই সাবেক দুই নেতা মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে নতুন জোট পাকাতান হারাপানের কাছে।

নির্বাচনের পরপরই নাজিব রাজাকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে দুর্নীতিবিরোধী
কমিশন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দুই হাজার ৫৩৫ কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকারও বেশি। জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১২
হাজার পিস গয়না, বিভিন্ন ব্যাগে প্রায় তিন কোটি ডলারের সমমূল্যের ২৬টি দেশের মুদ্রা, ৪২৩টি ঘড়ি ও ২৩৪ জোড়া সানগ্লাস। রয়েছে
খ্যাতনামা নকশাকারদের তৈরি নানা মূল্যবান ও সৌখিন সামগ্রী। আর এসব সামগ্রীর হিসাব মেলাতে পুলিশের সময় লেগেছে মোট ১৬
দিন। আর ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের সহায়তায় পুলিশের নগদ অর্থ গুণতেই সময় লেগেছে তিনদিন।

আরো পড়ুন :

বাসা থেকে জব্দ ২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ, বিব্রত নাজিব রাজাক
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বাড়ি থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দুই হাজার ৫৩৫ কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকারও বেশি।

জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১২ হাজার পিস গয়না, বিভিন্ন ব্যাগে প্রায় তিন কোটি ডলারের সমমূল্যের ২৬টি দেশের মুদ্রা, ৪২৩টি ঘড়ি এবং ২৩৪ জোড়া সানগ্লাস। রয়েছে খ্যাতনামা নকশাকারদের তৈরি নানা মূল্যবান ও সৌখিন সামগ্রী। আর এসব সামগ্রীর হিসাব মেলাতে পুলিশের সময় লেগেছে মোট ১৬ দিন।

২৭ জুন বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের বাণিজ্যিক অপরাধ তদন্ত দফতরের অমর সিং ইশার সিং।

গত ১৬ মে থেকে কুয়ালা লামপুরে নাজিবের বিলাসবহুল ভবন এবং মূল বাড়িসহ সংশ্লিষ্ট ছয়টি স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব মূল্যবান সামগ্রী জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গয়নার তালিকায় বেশিরভাগই নেকলেস ও আংটি। এ সংখ্যা যথাক্রমে ১ হাজার ৪০০ এবং ২ হাজার ২০০। নেকলেসের মধ্যে সবচেয়ে দামিটির আনুমানিক ১৫ লাখ ডলার।

পুলিশ কমার্শিয়াল ক্রাইম ডিভিশনের প্রধান অমর সিংহ বলেছেন, এটিই সম্ভবত মালয়েশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জব্দ তালিকা। এত বেশি জিনিস ছিলো যে আমরা ওখানে গুণতেই পারছিলাম না। কর্মকর্তাদের পাঁচ সপ্তাহ লেগেছে জিনিসগুলো ঠিকঠাক গুণতে ও তার দাম অনুমান করতে।

নাজিব রাজাক রাজাক ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) অর্থ আত্মসাৎ করে নাজিব নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছিল।

এর আগেও নিজের কেনাকাটার অভ্যাস ও ব্র্যান্ডের জিনিসের প্রতি ভালোবাসার কারণে আলোচিত ছিলেন নাজিব রাজাকের স্ত্রী রোসমাহ মানসুর। তাকে ফিলিপাইনের ফার্স্ট লেডি ইমেলডা মার্কোসের সঙ্গেও তুলনা করা হচ্ছিলো।

সৌদি সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, ২০১৩ সালের নির্বাচনে জিততে মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার দিয়েছিল সৌদি আরব। মূলত দেশটিতে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব ঠেকাতেই তাকে এ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ অর্থ প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন করেছিলেন।

মালয়েশিয়ার অন্যতম রাজনৈতিক দল ইসলামপন্থী সংগঠন প্যান-মালয়েশিয়ান ইসলামিক পার্টি (পিএএস)। এ দলটির উদ্যোক্তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত। মূলত এই দলটিকে ঠেকাতেই নাজিবকে তহবিল দিয়েছিল সৌদি আরব।

ক্ষমতায় থাকাকালে নাজিব রাজাক সব ধরনের অপরাধ থেকে নিষ্কৃতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই নতুন করে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্বাচনে হারার পরই তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*