ফুসফুস ক্যান্সারের ৯০% কারণ ধুমপান

smoking
Share Button

বাংলা ফটো নিউজ : পৃথিবীতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর বস্তুগুলোর মধ্যে তামাক অন্যতম। তামাকজাত দ্রব্যগুলোর মধ্যে ধূমপান বিশেষভাবে ক্ষতিকারক। ধুমপানের ফলে শুধু ধুমপায়ী নয়, অধুমপায়ী ব্যক্তিও পরোক্ষ ধুমপানের ক্ষতির শিকার হয়ে থাকে। অন্যান্য ধোঁয়াবিহিন তামাকজাত দ্রব্য যেমন, গুল, জর্দ্দা, সাদাপাতা, খৈনীও একইভাবে ক্ষতি করে। শুধু তাই নয়, তামাক অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে ক্ষতি করে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ধুমপায়ীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমান বিশ্বে ধুমপায়ীর সংখ্যা একশ কোটিরও উপরে।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সংখ্যা ১৬০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে এবং তামাক ব্যবহারজনিত কারণে মৃত্যু ঘটবে ৫ কোটি লোকের। অতি প্রাচীন কাল হতে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি লোক ধোঁয়াবিহিন তামাক ব্যবহার করে থাকে। স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে ধূমপান একটি নীরব ঘাতক। যা অজান্তে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। প্রতিটি জলন্ত সিগারেট এক একটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরী। যা হতে প্রায় ৪ হাজার ক্ষতিকর বস্তুবের হয়। যেমন, এমোনিয়া, কার্বন মনোঅক্সাইড, নিকোটিন, নাইট্রিক এসিড, হাইড্রোজেন ছায়ানাইট, পারদ, আলকাতরা, নিকেল, সিসা, ক্যাডসিয়াম, বেনজিন ও কার্বনিল অন্যতম। এর মধ্যে ৪৩টি বস্তু সরাসরি ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

শতকরা ৯০% ফুসফুস ক্যান্সারের কারণ ধুমপান। ধুমপানে যে সমস্ত রোগ হয়ে থাকে থ্রম্বোসিস, হার্ট এ্যাটার্ক, সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস, প্যারালাইসিস, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা, গাংগ্রিন, ক্যান্সার, সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা, চোখের সমস্যা, দাঁত ও মাড়ির সমস্যা, আলসার ও ত্বকের সমস্যাসহ ইত্যাদি। স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিটি সিগারেট মানুষের জীবন থেকে কেড়ে নেয় ১১ মিনিট আয়ু। তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশে ৫৭ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটছে। অনুরূপভাবে ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করছে। ধূমপান শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, অর্থনৈতিকও ক্ষতির কারণ।

তামাক ব্যবহারের ফলে দেশে প্রতিবছর চিকিৎসার পিছনে ব্যয় হয় ১১ হাজার কোটি টাকা। তামাকের এ কুফল তুলে ধরে তামাকবিরোধী সংগঠণের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ নামে একটি আইন করে। আইনের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে আশানুরূপ সুফল না পাওয়ায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, সিয়াম ও এইড সহ বেশ কিছু তামাক বিরোধী সংগঠন সমূহে অব্যাহত আন্দোলনের মুখে ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল মহান জাতীয় সংসদে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ পাস করা হয়। যা চলতি বছর গেজেট আকাশে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ২০০৫ সালের আইনটি সংশোধিত আকারে যুগোপযোগী করা হলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন কোনো কাজে আসছে না। জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে আইনের কিছুটা প্রয়োগ দেখা গেলেও উপজেলা পর্যায়ে উদাসীন আইন বাস্তবায়নকারী সংশ্লিষ্টরা। আইনে জেলা প্রশাসককে জেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি এবং ইউএনওকে উপজেলা পর্যায়ে সভাপতি করে কমিটি গঠণ করার কথা থাকলেও অধিকাংশ উপজেলায় টাস্কফোর্স কমিটির কার্যকারিতা নেই।






Related News

She is truly in dreamland

সাফল্য পেতে চান ? আরাম করে ঘুমান!

Share Button

বাংলা ফটো নিউজ : কথাটা শুনে সবারই চোখ কপালে উঠবে। সাফল্য পেতে ঘুম হারাম করেRead More

sunny leone

পর্নগ্রাফির গোপন পাঁচ কথা

Share Button

বাংলা ফটো নিউজ : পর্নগ্রাফি নিয়ে ক দিন ধরেই উত্তাল দেশ। কেন্দ্র সরকার বেশ কয়েকটিRead More

  • গ্যাস্ট্রিকের ৫টি ঘরোয়া সমাধান
  • ঈদের দিনের সাজগোজ
  • ফুসফুস ক্যান্সারের ৯০% কারণ ধুমপান
  • মিথ্যা বলতে পারা শিশুদের স্মরণশক্তি ভালো
  • অল্প সংখ্যক মানুষ কেন বাঁহাতি হয় ?
  • ম্যাগি-প্রশ্নে নতুন মোড়
  • আরেকটি পুরস্কার জিতলো ‘গাড়িওয়ালা’
  • চন্দনাইশে ভিজিডি কর্মসূচীর মহিলাদের অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে