শর্তের বেড়াজালে প্রত্যাশিত ভারতীয় ঋণ

kairul savar
Share Button

বাংলা ফটো নিউজ (মোহাম্মদ খায়রূল ইসলাম) : প্রত্যাশা আজকে হতাশায় পরিনত হবার দ্বার প্রান্তে । ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরকালে, বাংলাদেশকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যা আমাদের মতো গরীব প্রতিবেশীদের জন্য অনেক আশা বয়ে নিয়ে আসলেও, ঋণ এর শর্তসমুহ জানার পর এর গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে মারাত্বক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই ঋণ মুলত ভারতের এক্সিম ব্যাংক এর দিবার কথা ছিল। প্রতিশ্রুত ঋণ পেতে উচ্চ সুদসহ কঠিন শর্ত দিয়েছে দেশটি। শর্তানুসারে লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) ঋণের অনুকূলে গৃহীত প্রতিটি প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ পণ্য বা সেবা শুধুমাত্র ভারতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে কিনে আনতে হবে। বাংলাদেশে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে কাজের সুযোগ করে দেয়ার শর্তে এ ধরনের ঋণ, যা সরবরাহ করবে সে দেশের এক্সিম ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঋণ দিয়ে মুলত একতরফাভাবে লাভবান হতে চায় ভারত। কেননা ভারতের অনেক পণ্যই গুণগত মানসম্পন্ন নয়। তবুও অন্য কোনো দেশ থেকে গৃহীত প্রকল্পের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় করা যাবে না। ফলে এই এলওসির মাধ্যমে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হবে এ নিয়ে নতুন করে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগেও ভারতের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে যার ২০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই চুক্তির অর্থ ব্যবহারের শর্ত কিছুটা নমনীয় ছিল। তাতে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে ৬৫ শতাংশ এবং অন্য প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ কেনাকাটা ভারত থেকে করার শর্ত ছিল।তারপড়ও কথিত নমনীয় শর্তেও গৃহিত প্রকল্প বাস্তবায়নে মারাত্বক ভাবে পিছিয়ে পড়ে, বেড়ে যায় প্রকল্পের ব্যয়। প্রকল্পের মান বজায় রাখা নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। কিভাবে ঋণের শর্ত আরও নমনীয় করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে বাংলাদেশকে। আগের জটিলতা পরিহারে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া উচিত। ভারতের নতুন ঋণ নেয়ার আগে এর ব্যবহার, সক্ষমতা, শর্ত প্রভৃতি সুষ্ঠুভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। নইলে অর্থনৈতিক উন্নতির বদলে চাপই বাড়বে, যা কাম্য নয়।
ভারতের ঋণের অর্থ দিয়ে ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে সরকার। প্রকল্পগুলো হল রেল যোগাযোগ খাতের পার্বতীপুর-কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথকে দ্বৈত গেজে রুপান্তর; খুলনা-দর্শনা দ্বিমুখী রেলপথ নির্মাণ; সৈয়দপুর রেল কারখানা উন্নয়ন; বিদ্যুৎ খাতের বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন নির্মাণ; পরিবহন খাতের বিআরটিসির ৫০০ ট্রাক কেনা; ৫০০ বাস (৩০০ দ্বিতল ও ২০০ আর্টিকুলেটেড) কেনা; সড়ক ও জনপথ বিভাগের জন্য যন্ত্রপাতি কেনা; চারটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাষ্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট স্থাপন; ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন; আশুগঞ্জ নৌ কনটেইনার বন্দর স্থাপন ও আশুগঞ্জ নৌবন্দর-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। এ তালিকায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আরও দুটি প্রকল্প রয়েছে।

সমঝোতা চুক্তির স্বাক্ষর করার সময় বলা হয়েছিল, দ্বিতীয় পর্যায়ের এই সহায়তার শর্ত আগের মতোই থাকবে। তবে ভারতীয় পক্ষ থেকে এখন জানানো হয়েছে, এবারের ঋণের আওতায় নেয়া যে কোনো প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ কেনাকাটাই ভারত থেকে করতে হবে। আর প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিতে হবে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।

এর আগে ইআরডিতে সম্প্রতি প্রেরিত এক চিঠিতে ভারতের এলওসি ঋণের নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়। উক্ত প্রস্তাবে বলা হয়, এ ঋণের সুদ হার হবে গড়ে সাড়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশ। কমিটমেন্ট ও ম্যানেজমেন্ট ফি হবে আলোচনা সাপেক্ষে। কেবল বিদ্যুৎ, আবাসন ও হাসপাতাল, পানি শোধনাগার, সড়ক, মূলধনী ও প্রকৌশলী এ পাঁচ খাতেই প্রকল্প নিতে হবে। সর্বোপরি বাংলাদেশ সরকারকে এ ঋণের গ্যারান্টার হতে হবে। এসব শর্ত মেনে নিলে উভয় দেশের মধ্যে ঋণচুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটি। অথচবাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে ১ শতাংশ সুদে ঋণ নিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এখনও বড় বিনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে দেখতে হবে সহজ শর্তে দাতা সংস্থা বা দেশগুলো ঋণ দেয় কিনা। যদি সহজ শর্তে পাওয়া যায় তবে বায়ার্স ক্রেডিটের দিকে না যাওয়াই উত্তম। ভারতের ঋণের বিষয়টিও একই রকম। প্রকল্প গ্রহণের পর তা থেকে কাঙ্ক্ষিত ও ফলপ্রসূ সুবিধা পাওয়া যাবে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। তিনি বলেন, এ অর্থে গৃহীত প্রকল্পে সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে ব্যয় বৃদ্ধি না করে মানসম্পন্ন পণ্য আনার নিশ্চয়তা থাকা উচিত। তা না হলে দায় বাড়বে কিন্তু জনগণের কোনো উপকার হবে না।

বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, বায়ার্স ক্রেডিট বা এলওসি লোন নেয়া যাবে না তা নয়। কিন্তু এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে মানসম্পন্ন মালামাল নিশ্চিত হচ্ছে কিনা। যদি না হয় তাহলে বাংলাদেশের লায়াবিলিটিস (ঋণ) বাড়বে কিন্তু কোনো অ্যাসেট (সম্পদ) বাড়বে না।

জানা গেছে, ভারত যেসব পণ্য বাংলাদেশকে দেয় তা একেবারেই নিন্মমানের। রেল বা পরিবহনে তারা যে মানের পণ্য বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তার চেয়ে অনেক নিন্মমানের জিনিস বাংলাদেশে আসে। যেমন এর আগে যেসব বিআরটিসি বাস ভারত থেকে আনা হয়েছে, তার অনেকগুলো ইতিমধ্যে অকেজো হয়ে গেছে।

……………মোহাম্মদ খায়রূল ইসলাম-আইনজীবী ও কলাম লেখক






Related News

CAMBIOS PLANETA

মানুষ’র জীবন ও সৃষ্টির রহস্য

Share Button

আল্লাহ তায়লা যখন মানুষ সৃষ্টি করার ইচ্ছা পোষন করলেন । তখন তিনি ফিরিস্তাদের সাথে আলাপRead More

বাংলা ফটো নিউজ এ্যাড 1

বেঈমান হতে চাই ঈমানদার বেঈমান

Share Button

এই বসন্তে আমি কোকিল হবো… গানের বদলে স্লোগান দিবো… ”বেঈমান হতে চাই ঈমানদার বেঈমান”/ রিক্সাRead More

  • মুজিব কোর্ট
  • ঐশীর ফাঁসিই শেষ কথা নয়!
  • ইন্টারনেটের কানা-গলি
  • কিভাবে চিনবেন ক্ষতিকারক ওষুধ খাওয়ানো মোটাতাজা গরু ?
  • শর্তের বেড়াজালে প্রত্যাশিত ভারতীয় ঋণ
  • সাভার ব্যাংক কলোনির প্রতারক পান্নুর খুটির জোর কোথায় ?
  • রমজানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা অনৈতিক
  • রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা