\ আ. লীগের মেয়র বিদেশে, তাঁর নামে কারাগারে যুবলীগকর্মী | Bangla Photo News
Wednesday , November 21 2018
Homeঅন্যান্যআ. লীগের মেয়র বিদেশে, তাঁর নামে কারাগারে যুবলীগকর্মী
আ. লীগের মেয়র বিদেশে, তাঁর নামে কারাগারে যুবলীগকর্মী

আ. লীগের মেয়র বিদেশে, তাঁর নামে কারাগারে যুবলীগকর্মী

বাংলা ফটো ন্র্থিউজ :  আত্মসাতের মামলায় গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র ‘আনিছুর রহমান’সহ দুজনকে রোববার কারাগারে পাঠান ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত। কিন্তু মেয়র আনিছুর রহমান বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় সোমবার গাজীপুরে আলোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি ছিল টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকৃত মেয়র বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। তাহলে তাঁর পরিবর্তে মেয়র আনিছুর রহমান পরিচয়ে কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিটি কে? আর কেনই বা তিনি মিথ্যা পরিচয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেলেন? এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এবং তাদের স্বার্থ সম্পর্কে জানতে চায় এলাকাবাসী।

এদিকে মেয়র হিসেবে মিথ্যা পরিচয়দানকারী ব্যক্তিকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয় বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান গত ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার ৯ দিনের সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়া গেছেন। তিনি বিদেশ যাওয়ার পরের দিন রোববার ৯ সেপ্টেম্বর শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান পরিচয়ে এক ব্যক্তি ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমান খানের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে চার মামলায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁকে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় এক মামলায় জামিন দেন, তবে তিন মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সময় শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষক আবদুল মান্নান একই আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে দুই মামলায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালত থেকে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়রকে কারাগারে পাঠানোর খবর দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শ্রীপুরসহ গাজীপুরের সর্বত্র শুরু হয় নানা গুঞ্জন। এ ব্যাপারে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মেয়র পরিচয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করা ব্যক্তিটি হলেন যুবলীগকর্মী নূরে আলম মোল্লা।

শ্রীপুর পৌরসভার সচিব বদরুজ্জামান বাদল বলেন, শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান ৯ দিনের সরকারি সফরে শনিবার রাত ১১টার দিকে মালিন্দো এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে চড়ে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক এক সম্মেলনে যোগ দেবেন। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে বিদেশ অবস্থান করছেন।

শ্রীপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন জানান, মেয়র আনিছুর রহমান দেশের বাইরে থাকায় তিনি রোববার থেকে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। তবে মেয়র সেজে কে কারাগারে রয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই।

মেয়র আনিছুর রহমানের ছোট ভাই স্থানীয় মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোকলেছুর রহমান বলেন, মেয়র আনিছুর রহমান বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। লোকমুখে শুনেছি মেয়র আনিছুর রহমান পরিচয়ে তাঁর আস্থাভাজন যুবলীগকর্মী নূরে আলম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেছেন।

মেয়র আনিছুরের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান নামের একজন রোববার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে চার মামলায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত এক মামলায় তাঁকে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেন, তবে তিন মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি সঠিক মেয়র কি না, এ বিষয়ে কাগজে প্রমাণিত হবে। তাঁর সঙ্গে শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষক আবদুল মান্নান আদালতে আত্মসমর্পণ করে দুই মামলায় জামিনের আবেদন করলেও আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকেও কারাগারে পাঠান।

তবে মেয়র বিদেশ রয়েছেন এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান।

এদিকে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানের নামে কারাগারে যাওয়া নূরে আলম মোল্লাকে সোমবার কারাগার থেকে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় নূরে আলম মোল্লা আদালতকে জানান, মেয়র আনিছুর রহমানের অনুপ্রেরণায় তাঁর পরিচয়ে তিনি রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

মামলার অভিযোগে সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে আসামিরা শ্রীপুর পৌরসভার অন্তর্গত পাঁচটি হাট-বাজার থেকে সাত লাখ ৩৫ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।

অপর তিন মামলার অভিযোগে বলা হয়, পৌরসভার রশিদের মাধ্যমে আদায়কৃত ট্যাক্স ও বিবরণীর ৪৩ লাখ ৭৬ হাজার ১০৭ টাকা পৌরসভার তহবিলে জমা না করে আত্মসাৎ করা হয়। ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৬ সালের ১২ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অন্য দুই মামলায়ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*