\ যৌবনের ইবাদত আল্লাহ অধিক পছন্দ করেন | Bangla Photo News
Wednesday , December 19 2018
Homeমুক্তমতযৌবনের ইবাদত আল্লাহ অধিক পছন্দ করেন
যৌবনের ইবাদত আল্লাহ অধিক পছন্দ করেন

যৌবনের ইবাদত আল্লাহ অধিক পছন্দ করেন

বাংলা ফটো নিউজ : ইসলাম ও কোরআনের জন্য সবচেয়ে বেশি যাদের অবদান, তারা বেশিরভাগই যুবক ছিলেন। সাহাবি হজরত ওমর ফারুক (রা.) যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, তখন তার বয়স ছিল ২৭ বছর। হজরত ওমর (রা.) ইসলাম ধর্ম কবুল করে ক্ষান্ত নন; তিনিই সর্বপ্রথম আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) বলেছিলেন, হে প্রিয় নবী, আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই। রাসুল বললেন, অবশ্যই, কী তোমার প্রশ্ন? তিনি (হজরত ওমর) বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), আপনি যে ধর্ম আমাকে গ্রহণ করালেন এই ধর্ম তো অবশ্যই সত্য? রাসুলুল্লাহ বললেন, আপনি যে মহান আল্লাহপাকের কথা বলেছেন সেই আল্লাহ তো আমার রব, এটাও তো সত্য। রাসুল (সা.) বললেন, হ্যাঁ সত্য। আবার বললেন, আপনি যে আমাদের রাসুল (সা.) এটাও তো সত্য।

রাসুল (সা.) বললেন, হ্যাঁ সত্য। তিনি আরও জিজ্ঞেস করলেন, আপনি যে আমাদের জন্য মহান আল্লাহপাকের বাণী তথা পবিত্র কোরআন শোনাচ্ছেন এটাও তো সত্য? রাসুল বললেন, হ্যাঁ সত্য। রাসুলুল্লাহ, আমার ধর্ম সত্য, আমার রব সত্য, আমার রাসুল সত্য, আমার পবিত্র কোরআন সত্য; তাহলে আমি আজ থেকে মক্কাবাসীকে জানিয়ে দিতে চাই, এই ইসলাম ধর্ম আমি কবুল করেছি। তিনি মক্কার কাফেরদের উদ্দেশে পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিতে শুরু করলেন, হে মক্কার কাফেররা, তোমরা শোনো- আমি ইসলাম ধর্ম কবুল করেছি আর ইসলামই হলো সত্য ধর্ম। তাই তোমাদের আমি জানিয়ে দিতে চাই, এখন থেকে ইসলামের দাওয়াত আর গোপনে হবে না, প্রকাশ্যে হবে। সুতরাং তোমরা যেন কেউ বাধা দিতে এসো না। আমি ওমর তাহলে বসে থাকব না, তার উচিত শিক্ষা দিয়ে দেব। তারপর থেকেই ইসলাম প্রচার তথা আজান দেওয়া শুরু হলো প্রকাশ্যে এবং উচ্চস্বরে; অর্থাৎ তিনি ছিলেন যুবক। আরও যুবক ছিলেন অনেক সাহাবি; যেমন- আবু বকর (রা.) ছিলেন। অন্যতম একজন যুবক আলী (রা.) ছিলেন একজন তরুণ সাহাবি অর্থাৎ ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে যুবকরাই ছিল সর্বসেরা। এমনকি আমাদের দেশের কথা যদি বলি, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনতার যখন ঘোষণা এলো, তখন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যুবকরাই। তাই আবারও বলতে পারি, যুবকরা সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, মহান আল্লাহপাকের কাছে যুবকদের ইবাদত সবচেয়ে আগে কবুল হয়।

তাই তিনি যুবকদের আমলের জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিতেন এবং এ কথাও তিনি বলতেন, মহান আল্লাহপাক কিয়ামত দিবসে যে প্রশ্ন করবেন তার মধ্যে অন্যতম হলো, তোমার যৌবনকাল কোন পথে ব্যয় করেছ। তাই আসুন, আমরা সুস্থ-সবল জীবন নিয়ে যৌবনের তাড়না সময়মতো খারাপ কাজ থেকে বিরত থেকে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিই।

লেখক: হাফেজ মো. আবদুল খালেক, সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়া, ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*