\ এশিয়া কাপ : ৩ ক্রিকেটারের শাস্তি | Bangla Photo News
Sunday , December 16 2018
Homeখেলাধুলাএশিয়া কাপ : ৩ ক্রিকেটারের শাস্তি
এশিয়া কাপ : ৩ ক্রিকেটারের শাস্তি

এশিয়া কাপ : ৩ ক্রিকেটারের শাস্তি

বাংলা ফটো নিউজ : আইসিসির আচরণবিধির লেভেল-১ ভঙ্গের কারণে জরিমানার কবলে পড়েছেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক আসগর আফগান, লেগ-স্পিনার রশিদ খান ও পাকিস্তানের পেসার হাসান আলী। চলতি এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে আচরণবিধি ভঙ্গের কারনে আসগর, রশিদ ও হাসানকে ম্যাচ ফি’র ১৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনজনকেই ১টি করে ডিমেরিট পয়েন্টও দেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম ডিমেরিট পেলেন রশিদ ও হাসান। তবে আফগান অধিনায়কের অ্যাকাউন্টে রয়েছে দু’টি ডিমেরিট পয়েন্ট। কারণ এর আগে ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালীন ১টি ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছিলেন আসগর।

এশিয়া কাপে গতকাল সুপার ফোরের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলো আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। ম্যাচে আফগানিস্তান ইনিংসের ৩৭তম ওভারে রান নেয়ার সময় পাকিস্তানের পেসার হাসানকে কাঁধ দিয়ে ধাক্কা দেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক আসগর। যা আইসিসির নজর এড়ায়নি।

এছাড়া পাকিস্তান ইনিংসের ৪৭তম ওভারে পাকিস্তানের আসিফ আলীকে আউট করে তাকে প্যাভিলিয়নে ফেরত যাবার ইঙ্গিত দেন আফগানিস্তানের রশিদ। ফলে জরিমানার কবলে পড়লেন তিনি।

পাকিস্তানের হাসান আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন আফগানিস্তান ইনিংসের ৩৩তম ওভারে। নিজের ওভারে বল ডেলিভারি দিয়ে নিজেই ফিল্ডিং করে আফগান ব্যাটসম্যান হাশমতউল্লাহ শাহিদির উদ্দেশ্যে ক্ষুব্ধ মেজাজে বল ছোঁড়ার ভঙ্গি করেন হাসান। যা আইসিসির আচরণবিধি ভঙ্গের মধ্যে পড়েছে।

আসগর, রশিদ ও হাসানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ এনে জরিমানা করেন আইসিসির এমিরেটস এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট। তাকে সহায়তা করেন অন-ফিল্ড আম্পায়ার ভারতের অনিল চৌধুরী ও দক্ষিণ আফ্রিকার শন জর্জ ও থার্ড আম্পায়ার অস্ট্রেলিয়ার রড টাকার।
ম্যাচ শেষে তিন খেলোয়াড়কে ডাকেন আইসিসির এমিরেটস এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি পাইক্রফট। সকলেই তাদের দোষ স্বীকার করে জরিমানা মেনে নেন। সে কারণে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

সরফরাজ-আসগরের কথা
দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর এশিয়া কাপের ১৪তম আসরের সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩ উইকেটে হেরেছে আফগানিস্তান। শেষ ওভারে গিয়ে জয়ের স্বাদ নেয় পাকিস্তান। পাকিস্তানের জয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন ইমাম-উল-হক, বাবর আজম ও শোয়েব মালিক। তাই ম্যাচ শেষে এই তিন খেলোয়াড়ের প্রশংসা করলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। এমনকি এ তিন জনের প্রশংসা করেছেন আফগানিস্তানের দলপতি আসগর আফগানও।

আবু ধাবিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৭ রান তুলে আফগানিস্তান। দলের পক্ষে হাসমতউল্লাহ শাহিদি ১১৮ বলে অপরাজিত ৯৭ ও অধিনায়ক আসগর ৫৬ বলে ৬৭ রান করেন। জবাবে নিজেদের ইনিংসে ষষ্ঠ বলেই ওপেনার ফখর জামানকে হারায় পাকিস্তান। এরপর দলের হাল শক্ত হাতে ধরেন ইমাম ও বাবর। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৫৪ রান যোগ করেন তারা। এতেই ম্যাচ জয়ের ভিত পেয়ে যায় পাকিস্তান।

কিন্তু পাকিস্তানের মিডল-অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে দেননি আফগানিস্তানের বোলার রশিদ খান। ফলে শেষদিকে এসে ম্যাচ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় পাকিস্তান। শেষ চার ওভারে জিততে ৩৯ রান দরকার পড়ে পাকিস্তানের। ওভারপ্রতি প্রায় ১০ রান প্রয়োজন ছিলো তাদের। প্রয়োজনের কাজটি ম্যাচের শেষ ওভারে গিয়ে সম্পন্ন করেন সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৩ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন মালিক। তাই ম্যাচ সেরাও হন মালিক।

স্বস্তির জয়ের পর ম্যাচ শেষে ইমাম, বাবর ও মালিকের প্রশংসা করলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা শেষপর্যন্ত খুবই উত্তেজনায় ছিলাম। কৃতিত্ব দিতে হবে ইমাম, বাবর ও মালিককে। তাদের প্রশংসা না করলেই নয়। আফগানিস্তান ভালো ব্যাট করেছে এবং তাদের বিশ্বসেরা তিন স্পিনার রয়েছে। বিশেষভাবে এই পিচে তারা ভালো ব্যাটিং ও বল করেছে। আবারও বলছি, মালিকের প্রশংসা করে শেষ করা যাবে না। ২৫৭ রান চেজ করা মোটেও সহজ নয়। মালিকের জন্য প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে ইমাম ও বাবর। তাদের বড় জুটিই আমাদের ম্যাচে টিকে রেখেছিলো। তবে আমাদের ফিল্ডিং নিয়ে আরও অনেক বেশি কাজ করতে হবে।’

সরফরাজের মত ইমাম, বাবর ও মালিকের প্রশংসা করলেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক আসগর আফগান। তিনি বলেন, ‘প্রথমে পাকিস্তানকে অভিনন্দন জানাই। হ্যাঁ, আজ দিনটি কঠিন ও রোমাঞ্চকর ছিলো। আমার মনে হয়, এবারের আসরে এ পর্যন্ত এটিই ছিলো আমাদের জন্য কঠিন একটি ম্যাচ। আমি অবশ্যই ইমাম, বাবর ও মালিকের প্রশংসা করবো। পাকিস্তানের ম্যাচ জয়ের জন্য তাদের কৃতিত্ব অনেক। যদি মালিকের ক্যাচটি আমরা নিতে পারতাম, তবে ম্যাচটি আমাদের পক্ষে চলে আসতো। কিন্তু যখন ভালো ব্যাটসম্যানকে সুযোগ দেয়া হবে, তখন ম্যাচে লড়াই করা কঠিন। আজ আমি ও হাসমত ভালো খেলেছি। কারন আমরা ২৪০-এর বেশি রান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের বোলিং ও ফিল্ডিং আরো ভালো করা উচিত ছিল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*