\ কোটা বাতিলের পরিপত্র প্রকাশ | Bangla Photo News
Wednesday , December 19 2018
Homeলীড নিউজকোটা বাতিলের পরিপত্র প্রকাশ
কোটা বাতিলের পরিপত্র প্রকাশ

কোটা বাতিলের পরিপত্র প্রকাশ

বাংলা ফটো নিউজ : সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে দুই সংগঠনের অবস্থানের মধ্যেই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোটা পদ্ধতি সংশোধন করে গেজেট আকারে জারি করেছে সরকার।

এরফলে ৪০তম বিসিএসের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার পরিবর্তে মেধায় নিয়োগ হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বৃহস্পতিবার পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিলাম কোটা বিষয়ে সরকারের সবশেষ গ্রহণ করা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার নিয়োগ হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে এই বিসিএসে কোটা নয় মেধা থেকে নিয়োগ হবে। এ ছাড়া কয়েকটি নন ক্যাডার নিয়োগের ক্ষেত্রেও কোটার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলাম। সেই নিয়োগ গুলোতেও সরকারের সর্বশেষ কোটার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, তবে যেসব নিয়োগ আগের, যেমন ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে ক্যাডার নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের কোটা নীতি ব্যবহার করা হবে।

পিএসসি জানায়, ৪০তম বিসিএসের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। চলবে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদের স্বাক্ষরে বৃহস্পতিবার জারি করা এই পরিপত্রে বলা হয়, নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হল। এখন থেকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল হলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে কোটা ব্যবস্থা আগের মতই বহাল থাকবে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে এতদিন ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘সরকার সকল সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ জারি করা কোটা পদ্ধতি সংশোধন করল।’

কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস আগে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের একটি প্ল্যাটফর্ম ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এরপর কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেয় সরকার।

ওই কমিটি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে, যা বুধবার মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়।

মন্ত্রিসভার ওই সিদ্ধান্তের পর এর প্রতিবাদে এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে বুধবার রাতে ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড’ ও ‘মুক্তিযোদ্ধার পরিবার’ নামে দুটি সংগঠন রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।

তাদের অবস্থানের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুরেও শাহবাগ হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছয় দফা দাবিতে শনিবার বিকালে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড’।

তাদের দাবিগুলো হল- কোটা পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন বাতিল, বিসিএসসহ সব চাকরির পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি থেকে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, স্বাধীনতাবিরোধীদের বংশধরদেরও সরকারি চাকরি থেকে বহিষ্কার, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার, ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের শাস্তি।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়োগে কোটা বাতিলে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বুধবার বলেছিলেন, কোটা পর্যালোচনায় গঠিত বর্তমান কমিটি প্রয়োজনে তাদের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে পারবে এবং সরকার সে অনুযায়ী কোটা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করতে পারবে।

কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকালে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দেন, কোটার পক্ষে জোরাল আন্দোলন হলে নতুন সিদ্ধান্ত আসতেও পারে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের পাশাপাশি বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীও তাদের কোটা সংরক্ষণের দাবি তুলেছে।

আদিবাসী সাধারণ ছাত্র কোটা সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নিপুন ত্রিপুরা বলেন, ‘আদিবাসীরা যেহেতু তুলনামূলক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, সেক্ষেত্রে এটা (কোটা) আমাদের সাংবিধানিক অধিকার’।

‘সরকার বলেছে, তারা বৈষম্য কমানোর জন্য কোটা তুলে দিয়েছে। কিন্তু আদতে এতে বৈষম্য বেড়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*