\ মানুষের সহনশীলতা কমছে, বাড়ছে রাগের বহিঃপ্রকাশ | Bangla Photo News
Tuesday , September 17 2019
Homeঅন্যান্যমানুষের সহনশীলতা কমছে, বাড়ছে রাগের বহিঃপ্রকাশ
মানুষের সহনশীলতা কমছে, বাড়ছে রাগের বহিঃপ্রকাশ

মানুষের সহনশীলতা কমছে, বাড়ছে রাগের বহিঃপ্রকাশ

বাংলা ফটো নিউজ : আপনি কি খুব বেশি রেগে যান? রেগে গেলে ভাঙচুর করেন? কিম্বা হাতের কাছে যা পান ছুঁড়ে মারেন, গলা ফাটিয়ে চেঁচামেচি বা হুমকি দেন?
এমন রাগ নাকি নিয়ন্ত্রণ করাই উচিৎ। কিন্তু কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?

ঢাকার ধানমন্ডিতে একটি কর্মশালায় জড়ো হয়েছিলেন এমন কিছু মানুষ যারা রাগ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জানতে এসেছেন। রেগে গেলে কে কিভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানান সেটি নিয়ে আলাপ হচ্ছিলো।

তাদের একজন বলছেন, “এটা বলতে একটু লজ্জা লাগছে। আমি খুবই চিল্লাচিল্লি করি। আশপাশে ভাঙার মতো কিছু পেলে ভাঙাভাঙি করি। কথা বলা বন্ধ করে দেই। আমাকে দেখলে বোঝা যাবে ন এমন রাগতে পারি।”

রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম, অতিরিক্ত গাড়ির হর্ন, বাসের কন্ডাকটরের আচরণ, রেস্টুরেন্টের ওয়েটারের দেরিতে খাবার দেয়া, এমন অনেক কিছুতেই ইদানীং খুব রেগে যান এমন একজন আব্দুল্লাহ রেজওয়ান।

তিনি বলছেন, “ইদানীং হুট করে খুব রাগ হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে রাগ হয়ে যাওয়ার পরে এবং রাগারাগি করার পরে বুঝেতে পারি যে আমার তা উচিৎ হয়নি। আপার প্রিয়জনেরা আমাকে ইদানীং বলতে শুরু করেছেন যে আমি অযথাই রেগে যাচ্ছি।”

মনোবিজ্ঞানীরা যদিও বলছেন রাগ একটি স্বাভাবিক আবেগ। কিন্তু এই রাগ ক্ষতির কারণ হয়েও দেখা দিতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যক্তিজীবন, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে। এমনকি স্বাস্থ্যের ওপরও রাগের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

কর্মশালাটির আয়োজক আর্ক নামের একটি মনোচিকিৎসা কেন্দ্রের মনোবিজ্ঞানী মধুরিমা সাহা হিয়া বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের সহনশীলতা কমছে, আর রাগের বহিঃপ্রকাশ আগের থেকে অনেক বেশি বেড়ে গেছে।

তিনি বলছেন, “প্রতিদিন কিন্তু রাস্তায় বের হলেই অন্তত দুই থেকে তিনটা ঝগড়া দেখি। যেমন ধরুন, রিকশাওয়ালার সাথে যাত্রীর, এক বাসের সাথে আরে বাসের চালকের, ফেরিওয়ালার সঙ্গে ক্রেতার। প্রতিদিনই কিন্তু আমরা ঝগড়া দেখছি। আমাদের অবজারভেশন বলে আমাদের ধৈর্য কমছে আর রাগ বাড়ছে।”

কিন্তু কোন পর্যায়ে গেলে সেই রাগ নিয়ন্ত্রণ করার কথা ওঠে?

অনেকেই রেগে গেলে জিনিসপত্র ভাঙেন বা ছুঁড়ে মারেন, চিৎকার করেন
মধুরিমা সাহা বলছেন, “যখন সেটা স্বাভাবিকের পর্যায়ে থাকবে না তখনই তা নিয়ন্ত্রণের দরকার। যেমন কেউ যদি আক্রমণাত্মকভাবে সেটি প্রকাশ করে, মানুষজনকে আঘাত দিয়ে, অন্যকে হুমকি দিয়ে বা জিনিসপত্র ভাঙচুর করে যদি কেউ রাগ প্রকাশ করে – তাহলে।”

হুট করে এমন রেগে গিয়ে খুন খারাবি পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে এমন ঘটনাও শোনা যায়।

রাগ এমন পর্যায়ে চলে যাওয়ার আগেই সেটি নিয়ন্ত্রণ করা দরকার বলছিলেন এই মনোবিজ্ঞানী। কিন্তু রাগে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

মধুরিমা সাহা চারটি সহজ টিপস…
তিনি বলছেন, তাৎক্ষণিক কিছু কাজ আমরা করতে পারি, যেমন যে জায়গাটিতে রেগে যাওয়ার মতো কিছু ঘটেছে সেখান থেকে সরে যাওয়া। যার ওপরে রাগ হয়েছে – তার কাছ থেকে সরে যাওয়া। তার সাথে তখনই নয়, বরং খানিক পরে কথা বলা। হাতের কাছে যদি বরফ থাকে তাহলে তা হাত দিয়ে ধরে থাকা। বরফ মেজাজ শীতল করতেও সহায়তা করে।

“যদি সম্ভব হয় যে কাপড়ে আছেন তাতেই গোসল করে ফেলুন। নিশ্বাসের একটি ব্যায়াম করে দেখতে পারেন। সেটি করার পদ্ধতি হল, রাগ থেকে মনটাকে সরিয়ে নিশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেয়া। বুক ভরে গভীর নিশ্বাস নেয়া, সেটাকে কিছুক্ষণ ধরে থাকা, কিছুক্ষণ পর বাতাস ছেড়ে দেয়া। সেটি রাগ কমাতে সাহায্য করে।”

“হয়ত এর সবগুলোই আপনার কাজে নাও আসতে পারে কিন্তু চেষ্টা করে দেখতে তো আর সমস্যা নেই” -বলছেন মধুরিমা সাহা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*