\ পেঁয়াজের দর সকালে ৫০, সন্ধ্যায় ৭০ | Bangla Photo News
Monday , October 21 2019
Homeলীড নিউজপেঁয়াজের দর সকালে ৫০, সন্ধ্যায় ৭০
পেঁয়াজের দর সকালে ৫০, সন্ধ্যায় ৭০

পেঁয়াজের দর সকালে ৫০, সন্ধ্যায় ৭০

বাংলা ফটো নিউজ : ভারত সরকার পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার এক দিনের মাথায় প্রভাব পড়ল দেশে। গতকাল শনিবার পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেয়াজের দাম ১৮ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়। খুচরায় তা ৬৮–৭০ টাকা দাম ওঠেছে।

গতকাল শনিবার সকালেও খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার খবর খুচরা বাজারে পৌঁছার পর সন্ধ্যায় খুচরায়ও দাম বাড়তে থাকে। বিভিন্ন দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেজিপ্রতি ৬৮ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

গত শুক্রবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা প্রতি মেট্রিকটন পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য ন্যূনতম ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়। এর নিচে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন না ভারতের ব্যবসায়ীরা।

ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ঘোষণার আগে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে টনপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার দরে পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। একই পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য দাঁড়াবে ৮৫০ ডলারে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি সাড়ে ২৫ টাকা থেকে বেড়ে পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য দাঁড়াচ্ছে ৭২ টাকা। এই দরে এখনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। এর পরও ভারতের ওপর আমদানি–নির্ভরতা বাড়ার কারণে সেখানে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ল দেশে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইদ্রিস গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪২-৪৩ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এক দিনের মাথায় তা ৬০ টাকায় উঠেছে। বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। তবে পরিমাণে কম।

দেশে চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ছে না। গত দুই অর্থবছরে প্রতিবছর পেঁয়াজের উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন। উৎপাদন না বাড়লেও প্রতিবছর পেঁয়াজ আমদানি বেড়ে চলেছে। এ আমদানির প্রায় পুরোটাই আসছে ভারত থেকে। গত অর্থবছরে ভারত থেকে ১১ লাখ ৩৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। এর আগে ২০১৭–১৮ অর্থবছরে আমদানি হয় ৯ লাখ ৯৩ হাজার টন।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা প্রতি মেট্রিকটন পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য ন্যূনতম ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়।

ভারত ছাড়া বিকল্প দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করলেও তাতে সফল হওয়া যায়নি। চীন, মিসর, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে সামান্য পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হয়। ভারত থেকে আমদানির তুলনায় তা নগণ্য। ভারত থেকে বাংলাদেশের ভোমরা, সোনা মসজিদ, হিলি ও বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়। এই স্থলবন্দরগুলো ভারতের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকার কাছাকাছি। ফলে খুব দ্রুত পেঁয়াজ আমদানি করা যায় এ স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে। অন্যদিকে চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান বা মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে কমবেশি এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে।

ভারতের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব কমার্শিয়াল ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড স্ট্যাস্টিসিকসের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর ভারত সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ রপ্তানি করেছে বাংলাদেশে। এরপরের অবস্থান সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলংকা, নেপাল ও সৌদি আরব।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। এ জন্য পেঁয়াজ চাষে উৎসাহ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*