বাংলা ফটো নিউজ : সাভারের ঐতিহ্যবাহী ‘কর্ণপাড়া (কর্ণতলী) খাল’ দখল করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান। মেহেদী হাসানের মত প্রভাবশালী অনেকেই কর্ণপাড়া খাল দখল করে বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন স্থাপনা করেছেন। প্রভাবশালী চক্রের এমন প্রকাশ্য খাল দখলের উৎসবে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। অথচ, চোখের সামনে একটি ঐতিহাসিক এই খালটি বিলীন হয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী কর্ণপাড়া খালের একটি বড় অংশ পর্যায়ক্রমে ভরাট করে সেখানে মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খালের ৫১ দশমিক ৪০ শতাংশ জমি বায়না সূত্রে নিজের বলে দাবি করছেন। এছাড়াও কর্ণপাড়া খালের একটি বড় অংশ দখল করে অনেকেই বিভিন্ন স্থাপনা করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যে জায়গাটিতে মেহেদী হাসান সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন, সেটির একটি অংশ সম্পূর্ণ খালের জমি। প্রভাব খাটিয়ে খালের এই বিশাল অংশটি গিলে খাওয়ার পাঁয়তারা করছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই খালে বড় বড় নৌকা চলত। আজ দখল আর দূষণের কারণে খালের অস্তিত্বই বিলীন হতে চলেছে। এখন তো প্রকাশ্যেই খালের ওপর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মানচিত্র থেকেই এই খালের নাম মুছে যাবে।
খালের জমি এভাবে দখল হয়ে যাওয়ার পরও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা না থাকায় রহস্যের দানা বাঁধছে। বিষয়টি স্থানীয় ভূমি অফিস অবগত থাকার পরও রহস্যজনক কারণে দখলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন না। প্রশাসনের এই নীরবতাকে ‘রহস্যজনক’ এবং দখলদারদের প্রতি পরোক্ষ মদদ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, খালটির নাম হচ্ছে কর্ণতলী। কর্ণপাড়া হচ্ছে ধলেশ্বরী নদীর সাথের অংশটুকু। খাল দখল করে সাইনবোর্ড ঝোলানোর ঘটনা আমরা নিন্দা জানাই। খাল দখলের ঘটনায় শীঘ্রই আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবাদ জানাবো। এমনকি দখলকারীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করব। প্রয়োজনে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলাও করব।
খালের জমি দখলকারী সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, আমি তো কোন খালের জমি দখল করিনি। আমি যে জায়গায় সাইনবোর্ড লাগিয়েছি সেটা ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তি। আমি বায়না সূত্রে মালিক। তবে কার কাছ থেকে কত টাকা দাম ধরে এই খালের জমি ক্রয় করেছেন জিজ্ঞাসা করলে মেহেদী হাসান সে বিষয়ে কিছুই বলতে রাজি হননি। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি অফিস যদি মনে করে যে খালের জমিতে আমি সাইনবোর্ড লাগিয়েছি তাহলে তাদের খালের অংশ তারা নিয়ে যাক এখানে আমার তো কোন সমস্যা নেই। প্রশাসন জমি নিলে নিবে, আমি যার কাছ থেকে বায়না করেছি তাদের জমি, তাতে আমার কি।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, খাল দখল করে সাইনবোর্ড লাগানোর বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে দখলে নেয়া অংশ ব্যক্তি মালিকানা নাকি খালের জমি ভূমি অফিসে খোঁজ নিতে বলেন এবং তিনিও সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে বিষয়টি অবহিত করবেন জানিয়ে আরো বলেন, শীঘ্রই এই খালটির খনন কাজ শুরু হবে।
Leave a Reply