বাংলা ফটো নিউজ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিকে কেন্দ্র করে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টারজান চত্বর থেকে শিক্ষার্থীদের একটি মশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও ছাত্রী হল প্রদক্ষিণ শেষে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার বিচার ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। তবে একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ‘এক দুই তিন চার, প্রক্টর তুই গদি ছাড়, ভিসি তুই গদি ছাড়’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় উপস্থিত অনেকে অভিযোগ করেন, কর্মসূচিকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারার দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভস্থল ত্যাগ করা এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছি অভিযুক্তের বিচার ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে। কিন্তু এখানে কিছু শিক্ষার্থী কর্মসূচিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা কারও পদত্যাগের দাবিতে আসিনি।
৫১তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু সেটিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা হওয়ায় আমরা সরে যাচ্ছি।
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল থেকে মেয়েদের ডেকে এনে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এটিকে রাজনৈতিক ব্যানারে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা তা হতে দেব না। অভিযুক্তের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
অপরদিকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করেন। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, কুইক রেসপন্স টিম গঠন, নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান।
তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক আন্দোলনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভস্থল ত্যাগ করেছেন বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষার্থী।
এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালায় বহিরাগত এক ব্যক্তি। এসময় ওই শিক্ষার্থীর চিৎকারে অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
Leave a Reply