বাংলা ফটো নিউজ : সাভার ও আশুলিয়ায় বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী গ্যাস সংকটে পড়েছেন সাভারের উলাইল এলাকায় অবস্থিত বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান আল মুসলিম গ্রুপ।
এ পোশাক কারখানায় কাজ করেন নারী পুরুষসহ প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক। গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় সময়মত শিফমেন্টের কাপড় না যাওয়ায় বিদেশী বায়ারদের অর্ডার হারানোর পাশাপাশি ৩০ হাজার শ্রমিকের বেতন দেওয়া নিয়েও অনিশচয়তা দেখা দিয়েছে।
পোশাক কারখানার মালিকরা বলছেন, সাভার ও আশুলিয়ায় ছোট বড় মিলিয়ে কারখানা রয়েছে ১২’শর বেশী। গত কয়েকমাস ধরে বাসা বাড়ির পাশাপাশি এসব পোশাক কারখানায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে আল মুসলিম গার্মেন্টস কারখানায়।
সাধারণত জেনারেটর বা বয়লার চালানোর জন্য পোশাক কারখানাগুলোয় ১৫ পিএসআই (পাউন্ড পার স্কয়ারিংস-প্রতি বর্গইঞ্চিতে গ্যাসের চাপের ইউনিট) চাপের গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু ১ জানুয়ারি থেকে এ চাপ ২-৩ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। এ চাপের কারণে ধুকে ধুকে চলছে গ্যাসচালিত মেশিনের কারখানাগুলো। এতে এ শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
সাভারের আল মুসলিম গ্রুপের ডিরেক্টর মোসলেম উদ্দিন জানান, ১ জানুয়ারি থেকে তাদের কারখানায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকেই গ্যাসের স্বল্পতার কারণে বয়লার চালু করা যায়না ফলে শ্রমিকেরা কাজে এলেও তারা বসে আছেন। গত কয়েক মাস ধরে চলছে এ গ্যাস সংকট। ফলে উৎপাদন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে কারখানাটিতে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। ডায়ার মেশিনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় তৈরি করা পোশাক ওয়াশ করতে না পারায় সেগুলো ড্যাম্পিংয়ে পড়ে আছে। প্রস্তুত করা পোশাক সময়মত শিফমেন্ট দিতে পারছেনা তারা। ফলে বায়ারদের অর্ডার হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া শিফমেন্টর গাড়ি চালকরাও অলস সময় পার করছেন। সবমিলিয়ে তৈরি পোশাক কারখানাটি চরম বেকায়দায় রয়েছে গ্যাস সংকটের কারণে।
তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীরা বলছেন, জরুরি রপ্তানি কাজের জন্য করোনার মধ্যেও পোশাক কারখানা খোলা রাখা হয়েছে। এখন যদি গ্যাসের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়, তাহলে পোশাক রপ্তানিও ব্যাপকভাবে ব্যহত হবে। সময় মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে না পারলে কোটি কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়ে যাবে। কারখানা মালিকরা দ্রুত গ্যাস সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সাভার-আশুলিয়ায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে পোশাক কারখানাগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া কারখানাগুলোর পাশাপাশি বাসা বাড়িতেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চুলা না জ্বলায় মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছেন।
গ্যাস সরবরাহে নিয়োজিত সরকারি সংস্থা সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম বলেন, বিভিন্ন কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এতে লাইনে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সাভার ও আশুলিয়া শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ কম। তবে এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
Leave a Reply