বাংলা ফটো নিউজ : সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ার অজুহাতে রোজার প্রথম দিনে পাইকারি বাজারে ৫০ টাকার বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
মরিচের দামও কেজিতে বাড়লো ৩০ টাকা। পাইকারি বাজারের এই লাফঝাঁপের প্রভাবে খুচরা বাজার হয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন।
গেল সপ্তাহে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া শসা বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত। শসার পাশাপাশি বেড়েছে ছোলা, চিনি, চাল, ভোজ্যতেল, খেজুর, মাছ, মুরগি এবং গরু-খাসির মাংসের দাম।
বাঙালির ভাজাপোড়া ইফতার আয়োজনের অন্যতম অনুসঙ্গ মুখরোচক বেগুনি। এ কারণে রোজা এলেই বেগুনের কদর বেড়ে যায় অনেক। প্রতি বছর ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ নিতে ভুলেন না।
রমজানে বেগুন নিয়ে নানান কারসাজি নতুন কিছু নয়। এবার তার ব্যতিক্রম হয়নি। চাহিদা বুঝেই মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেগুনের দাম দ্বিগুন হয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি বেগুন ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি করছেন। দুদিন আগেও বেগুন বিক্রিহয়েছে ৬০-৭০ টাকায়। আর এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ টাকা।
বেগুনের এই আঁচ লেগেছে মরিচেও। এক রাতের ব্যবধানেই ৬০ থেকে ৭০টাকার মরিচ বিক্রি হয়১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে।
ব্যবসায়ীদেরসেই পুরনো অজুহাত। চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি বেশি। যদিও বাজার ঘুরে সরবরাহের কোনই ঘাটতি দেখা গেল না।
এক বিক্রেতাই জানালেন, রমজানে বেগুনের চাহিদা বেশি থাকে, তাই দামও বেশি পায়। চাহিদার কারণেএই সময়ে প্রচুর বেগুন আসে মফস্বল থেকে।
বাজারে লম্বা ও গোল দুই ধরনের বেগুনই আছে। তবে বেগুনি বানাতে লম্বা বেগুন কাটতে সুবিধা। তাই বাজারে গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ থেকে আসা লম্বা বেগুনের চাহিদা বেশি।
রেঁস্তোরাও খাবারের দোকানে প্রচুর বেগুন দরকার হয় এ সময়। বিকাল থেকে দোকানের সামনে টেবিল বসিয়ে বিক্রি হয় হরেক রকমের ইফতার সামগ্রী। এর মধ্যে বেগুনিও থাকবে।
বেগুনের সেঞ্চুরি পার আর পাইকারি বাজরে দামের লাফঝাঁপে সুবিধা হয়েছে খুচরা বিক্রেতারও।দাম হাঁকছেন ইচ্ছে মতো। সেই দামও বাজারভেদে উঠানামা করছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে যে হাইব্রিড শশা ৬০ টাকা, হাতিরপুল বাজারে সেটির দাম ৮০। আবার মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে শশা এক দোকানে ১১০ টাকা, তো পাশেই ১৮০টাকা।
দামের হেরফের ছিল লেবুতেও। শরবত খাওয়ার উপযোগী লেবু প্রতিটির দাম ৩০ টাকা। এই দামে সাধারণ লেবু মিলছে এক হালি।
ক্রেতারা বলছেন, দাম বাড়ানোর পুরনো অজুহাত শুনতে শুনতে তারা ক্লান্ত। এখন এই বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন তারা।
এক ক্রেতা বললেন, প্রতিদিনই জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের বাহানার শেষ নেই। আর রোজায় সেই বাহানার গায়ে তো রীতিমতো ডানা গজায়।
Leave a Reply