বাংলা ফটো নিউজ : ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা, ছাঁটাই বন্ধ এবং কালো তালিকাভুক্তি বাতিলের দাবিতে আশুলিয়া ও সাভারে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রোববার দুই অঞ্চলের অন্তত ১৭৭টি তৈরি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছে মালিকপক্ষ।
শিল্প পুলিশ, শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় সূত্রের খবর, রোববার সকালে কাজ শুরুর পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের নিউএজ গ্রুপ, ট্রাউজার লাইন ও আল-মুসলিম গ্রুপের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে বসে থাকেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুর ১২টার দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করলে শ্রমিকেরা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকেরা নরসিংহপুর এলাকায় ঢাকা-বাইপাইল সড়কের পাশে শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে জমায়েত হন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সব কারখানা ছুটির দাবি জানান। পুলিশ তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এরপর আন্দোলনকারীরা আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আশপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও বের করে আনার উদ্যোগ নেন। গোলযোগ এড়াতে নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর, ৬তলা, কাঠগড়া এবং হেমায়েতপুরের অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, একই দাবিতে বেলা ৩টার দিকে হেমায়েতপুরের একেএইচ গ্রুপের শ্রমিকেরা কারখানা ছেড়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নেমে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শিল্প পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বিক্ষোভের এক পর্যায়ে কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরে বিকেল ৫টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দেন বলে নিশ্চিত করেছেন সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর।
আল-মুসলিম গ্রুপের এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অক্টোবর মাসের মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সরকারি আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তাঁরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। অপর এক শ্রমিক জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাড়িভাড়া বাড়লেও অর্থনীতি সচল রাখা শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে না।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টুর মতে, সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিলেও মালিকপক্ষ বা প্রশাসন সেটি শ্রমিকদের স্পষ্টভাবে জানায়নি। সঠিক সময়ে তথ্য পৌঁছালে এই অসন্তোষ এড়ানো যেত।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আশুলিয়া ও সাভারের ১৭৭টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি থমথমে হলেও কোনো ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply