বাংলা ফটো নিউজ : ইট-পাথরের শহরে কাঠের আবেদন কমে গেছে এই কথা হলফ করে কেউ বলতে পারবে না। তবে আসবাবপত্রের ব্যবসায়ীরা বলেন তাদের ব্যবসা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। বোর্ড, স্টিল আর প্লাস্টিকের সাথে পাল্লা দিতে হচ্ছে তাদের।
বিলাসী ও রুচিশীল আসবাব বলতে এখনো লোকে কাঠের আসবাবপত্রই বোঝে। কেননা শহরের ঘর সাজাতে কাঠের ফার্নিচারের বিকল্প নেই। নামজাদা ফার্নিচারের দোকানে তাই এখনো ভিড় দেখা যায় একই রকম। শহুরে বিলাসিতার এই স্রোতে খানিকটা ভাটা হয়তো পড়েছে, তবে সেটার কদর কমেনি একটুও।
বিলাসীতা নয়, প্রয়োজনে আসবাবপত্র কেনেন এমন মানুষের সংখ্যাও এ শহরে কম নয়। আর তাদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে অনেক ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান ও দোকান। তেমনি বেশকিছু ফার্নিচার দোকান রয়েছে সাভারের নামা বাজার কাঠপট্রি, বাজার রোড ও আড়াপাড়া কামাল রোডে।
এখানকার দোকানে দোকানে কারিগরদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতন। হাতুড়ি-বাটালের সাহায্য কাঠে এঁকে দিচ্ছেন নানান নকশা। এর মধ্যেই খদ্দের আসছে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই যে দোকানের আসবাবপত্রের ডিজাইন ভালো, সেখানেই খদ্দেরের আনাগোনা বেশি। ছোট-বড় খাট, কাঠের আলমারি, ড্রেসিংটেবিল, ওয়ারড্রোব, চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চসহ সব ধরনের কাঠের আসবাবপত্র পাওয়া যাচ্ছে তবে এসব দোকানে নকশার বাইরেও কাঠের ভিন্নতার কারণে আসবাবপত্রের দামের ভিন্নতা রয়েছে। একটু ভালো মানের কাঠ দিয়ে আসবাব বানালে দামও বাড়ে তার সাথে সাথে।
আসবাব বানানোর ব্যস্ততার মাঝে কথা হলো মোতালেবের সঙ্গে। মোতালেব একজন ডিজাইনার। বিশ বছর ধরে এ পেশায় আছেন। সাভারের এক দোকানে পার করছেন প্রায় এক যুগ। তাদের এ শিল্প সম্পর্কে বাংলা ফটো নিউজকে জানান, ‘কাম শিখছি এইডা, আর করুম কি? কোনোমতে পেট চলে। স্টিল-পারটেক্স আওয়ার পর, কাঠের মাল কমই চলে। অহন তো আমরা স্টিল পারটেক্স-এর কাম শিখতে পারুম না, তাই এইডাই কইরা যাইতাছি।
তবে স্টিল-পারটেক্স এর যুগে কাঠের ফার্নিচার যারা কিনতে আসেন তারা স্টিল-পারটেক্সের আসবাব কেনেন না। এমন দাবি এখানকার ফার্নিচার বিক্রেতা ও কর্মচারীদের।
Leave a Reply