বাংলা ফটো নিউজ : পুলিশ মোতায়েনের মধ্যেই আবারও প্রতিপক্ষের হামলায় নড়াইলের আমাদা ও কামালপ্রতাপ গ্রামে ২০টি বাড়িঘর ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আলী আহম্মেদ খানের সমর্থকদের ২০টি বাড়িঘর এবং আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ভাংচৃুর করা হয়।
প্রায় চার মাস যাবত আমাদা গ্রামে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তা কোনো কাজে আসছে না বলে জানিয়েছেন সচেতনমহলসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। এ সময়ে আমাদা গ্রামে দুইপক্ষের মধ্যে অন্তত ছয়বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িঘর ভাংচুরসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, আজ মঙ্গলবার সকালে লোহাগড়ার আমাদা গ্রামের আবুল কাশেম খানের সমর্থকেরা রামদা, ঢাল-সড়কিসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ আলী আহম্মেদ খানের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- আমাদা গ্রামের ফেদু মল্লিক, আলা মল্লিক, বীরু মল্লিক, বিষু মল্লিক, আব্দুল হামিদ মল্লিক ও কামালপ্রতাপ গ্রামের নাজমুল মল্লিক, শরিফুল মল্লিক, মাজহারুল ইসলাম, রশিদ মল্লিক, ইদ্রিস মল্লিক, মন্টুু মল্লিক, তারিকুল মল্লিক, মুস্তাক মল্লিকসহ ২০টি পরিবার।
এর আগে গত ২৪ মার্চ ভোরে প্রতিপক্ষের হামলায় আমাদা গ্রামের আবুল কাশেম খানের সমর্থকদের ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শিশুসহ তিনজন আহত হয়। এছাড়া ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভেঙ্গে ফেলে এবং লুটে নেয় প্রতিপক্ষরা। বাড়িঘর ভাংচুরের সময় প্রতিপক্ষের লোকজন কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ও কয়েক রাউন্ড গুলি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরের দিন ২৫ মার্চ গভীর রাতে লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামে আলী আহম্মেদ খানের সমর্থকেরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে চার আসামি ছিনিয়ে নেয়। এ হামলায় লোহাগড়া থানার এক এসআই ও তিন এএসআই আহত হন। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে শটগানের চার রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আমাদা গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচটি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগানের ১৪ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এছাড়া গত তিন মাসে আমাদা গ্রামে দুইপক্ষের মধ্যে অন্তত ছয়বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িঘর ভাংচুরসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
পুলিশ মোতায়নের মধ্যেই দুইপক্ষের এ সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। এ সময় বাড়িঘর ভাংচুরসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদা বাজারে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অপরাধীরা পালিয়ে যায়। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, আমাদা বাজারে পুলিশ যেখানে মোতায়েন থাকছে, সেখান থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব আধা কিলোমিটারেরও কম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ মোতায়েনের পাশেই ঘটছে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা।
জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় আট মাস যাবত আমাদা গ্রামের আবুল কাশেম খান এবং আলী আহমেদ খানের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। দুইপক্ষের এ বিরোধ পাশের গ্রাম নড়াইল সদরের কামালপ্রতাপেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত চার মাসে আমাদা ও কামালপ্রতাপ গ্রামের ‘সংঘর্ষ পরিস্থিতি’ জটিল আকার ধারণ করেছে।
নড়াইল সদর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আমাদা গ্রামের দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছে। এর জের ধরে মঙ্গলবার এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
Leave a Reply