বাংলা ফটো নিউজ : সাভারের আশুলিয়া শিল্প অঞ্চলের পোশাক শ্রমিকরা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে যে বিক্ষোভের ডাক দেন, সেখান থেকেই একটি মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। আন্দোলনে নামা ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘাতের জের ধরে পুরো এলাকা রূপ নেয় রণক্ষেত্রে।
এই সংঘর্ষের মাঝে পড়ে হঠাৎ ছিটকে আসা একটি ইটের পাটকেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয় ১০ বছর বয়সী কোমলমতি শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান সামি। নুরুজ্জামান বিকেএসপি পাবলিক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ার জিরানী বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ অঘটনটি ঘটে। ইটের আঘাতে শিশুটির মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হলে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জিরানী বাজারের নাসিরউদ্দীন মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের কর্তব্যরত কর্মী বিথী আক্তার চিকিৎসাসংক্রান্ত আপডেট দিয়ে জানান, ইটের আঘাতে শিশুটির মাথা কেটে যায় এবং সাময়িক রক্তপাত হয়। জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ প্রদান করার পর সে শঙ্কামুক্ত হওয়ায় অভিভাবকরা তাকে নিরাপদে বাড়ি নিয়ে গেছেন। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ ও ভালো আছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় চরম বিভ্রান্তি। জখম হওয়া শিশুটির রক্তভেজা ছবি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হতে থাকে যে, শিশুটি আন্দোলনের সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়েছে। তবে এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিল্প পুলিশ ও আশুলিয়া থানা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সামির ওপর গুলি চালানোর সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের তীব্রতায় আশুলিয়ার নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও কাঠগড়াসহ সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সড়ক অবরোধ ও একটি কভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগের পর নিরাপত্তার খাতিরে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ওই এলাকার সিংহভাগ পোশাক কারখানায় সাময়িক ছুটি ঘোষণা করেছে।
Leave a Reply