বাংলা ফটো নিউজ : ফ্যাসিবাদী ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সৈনিক ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। সেই লড়াইয়ের সামনের সারিতে থেকে যে কজন শিক্ষক রাজপথের সাহসী যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের খ্যাতিমান অধ্যাপক ও জাতীয়তাবাদী ঘরানার প্রথিতযশা শিক্ষক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। যে ছাত্র জীবনে ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম নেতা।
গত কয়েক বছরের দুঃশাসনে যখন সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ ছিল, তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা থেকে শুরু করে ঢাকার রাজপথ, সর্বত্রই সরব ছিলেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের অন্যতম প্রাণপুরুষ হিসেবে তিনি কেবল শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন বারবার। জুলাই বিপ্লবে সম্মুখভাগের সেনানী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যখন পুরো দেশ উত্তাল তখন সাভার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসা পুলিশি ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হেলমেট বাহিনীর হামলা ও পুলিশের টিয়ারশেলের মুখেও তিনি শিক্ষার্থীদের ফেলে পিছু হটেননি। তীব্র রোদে কিংবা বৃষ্টিতে, রাজপথের মিছিলে তার উপস্থিতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জুগিয়েছে অসীম সাহস। ফ্যাসিস্ট সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুক্তিনির্ভর ও সাহসী বক্তব্য তুলে ধরেছেন নিরন্তর।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম কেবল একজন শিক্ষকই নন, তিনি গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে এক আস্থার প্রতীক। সহকর্মীদের মতে, ক্ষমতার মোহে অনেকেই যখন আদর্শ বিসর্জন দিয়েছেন, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম তখন জাতীয়তাবাদী আদর্শে অবিচল থেকে স্বৈরাচারের পতনের আন্দোলনে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। তার অকুতোভয় নেতৃত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছেন।
ফ্যাসিবাদ মুক্ত নতুন বাংলাদেশে যখন গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার পুনর্গঠন শুরু হয়েছে, তখন অধ্যাপক নজরুল ইসলামের মতো সাহসী শিক্ষকদের অবদান জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের কাছে তিনি আজ রাজপথের এক অকুতোভয় যোদ্ধার নাম, যিনি শিখিয়েছেন মাথা নত না করে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। তার এহেন প্রশংসিত কর্মকাণ্ড ও আদর্শিক পদচারনায় একটি গুপ্ত মহল ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলতে থাকে। তাকে ঘিরে নানা কুৎসা রটনা করতে থাকে। দমে না গিয়ে অবিচল থাকেন তিনি। সরকার পরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখে ষড়যন্ত্রকারীরা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। তবে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
Leave a Reply