বাংলা ফটো নিউজ : বর্তমানে বাংলাদেশবাসীর জীবনে বহুবিধ সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, সারা দেশে ৫০ শতাংশ এবং ঢাকায় ৭০ শতাংশ খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের মিশ্রণ রয়েছে।
দৈনন্দিন জীবনে ভোগ্যপণ্য হিসেবে আমরা যা খাচ্ছি তার বেশির ভাগই অস্বাস্থ্যকর এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিষাক্ত ফরমালিন মেশানো দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় মিষ্টি। চিনিতে মেশানো হয় চক পাউডার ও ইউরিয়া সার। আটা ও ময়দাতে মেশানো হয় বিষাক্ত চক পাউডার। দুধে মেশানো হয় ফরমালিন ও স্টার্চ। মাখন ও ঘিতে মেশানো হয় ক্ষতিকর মার্জারিন এবং পশুর চর্বি। সরিষার তেলে মেশানো হয় রেড়ির তেল এবং মরিচের গুঁড়া ও খনিজ তেল। সয়াবিন তেলে মেশানো হয় পাম অয়েল ও ন্যাপথলিন।
জানা গেছে, এসব পণ্যের অনেকগুলোই বিএসটিআইয়ের নজরদারির আওতাভুক্ত নয়। আর এ কারণেই এসব পণ্যের ফরমালিন ও বিষাক্ত উপাদান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দায়িত্ব এড়িয়ে থাকে বিএসটিআই। কিন্তু আইনের এই ফাঁকফোকরের সুযোগে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিষাক্ত ফরমালিন, কেমিক্যালসহ নানা ধরনের উপাদান দেদার মেশানো হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ফল, মাছসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে বিষাক্ত ফরমালিন মেশানোর সুযোগ পাচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এসব পণ্যের মান পরীক্ষা করার দায়-দায়িত্ব কেউ নিচ্ছেন না। খাদ্যপণ্যে ভেজাল বন্ধের মূল দায়িত্বে আছে বিএসটিআই। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাস্থ্য অধিদফতর, জেলা প্রশাসন, র্যাব, পুলিশসহ ছয় মন্ত্রণালয়ের ১০টি বিভাগের প্রতি রয়েছে ভেজাল রোধে বিশেষ নির্দেশনা। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বলতে কিছুই নেই। যে কারণে মাঝেমধ্যে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না ভেজালমুক্ত খাদ্যপণ্য।
Leave a Reply