বাংলা ফটো নিউজ : সাভারে অপহরণের পরে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিন জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২৭ মার্চ) সকালে সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত ওই কলেজ শিক্ষার্থীর ভাই রাকিব মিয়া। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান পিয়াসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ওই হত্যাকারী কোন্ডা কোটাপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। এই হত্যাকারী এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারীদের ইভটিজিংয়ের অভিযোগসহ নানা অপরাধ মুলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ মার্চ পাওনা টাকার বিরোধ কে কেন্দ্র করে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের নগর কোন্ডা কোটাপাড়া এলাকার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে মিরপুর মফিদ ই আম স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসানকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করেন তার বন্ধু আব্দুর রহমান পিয়াস। এসময় পিয়াস আরও কয়েকজন যুবককে ভাড়া করে নিয়ে কলেজ শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসানের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য বাড়ির পাশে কাশেম নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন এক তলা বাড়ির ছাদে সেপটি ট্যাংকির ভিতরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ওই শিক্ষার্থীর পরিবার সেই দিনেই সাভার মডেল থানায় একটি অপহরণের সাধারণ ডায়রি করেন। পরে পুলিশ ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
পরে গতকাল রাতে স্থানীয় লোকজন ওই নির্মাণাধীন বাড়ির সেপটি ট্যাংকির ভিতর থেকে দুর্গন্ধ আসলে স্থানীয়রা সাভার মডেল থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ওই শিক্ষার্থীর ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে নিহত ওই শিক্ষার্থীর ভাই হত্যাকারী কোন্ডা কোটাপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে আব্দুর রহমান পিয়াসকে প্রধান আসামি করে (১৮) ও মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ইমনকে দ্বিতীয় (১৮), ও মিজানুর রহমানের ছেলে লাবিনকে তৃতীয় (১৮) আসামী করে আরও দুই তিন জন অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ কোন্ডা কোটাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যার প্রধান আসামি পিয়াসকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে। পরে আদালতে হত্যার কথা শিকার করে পিয়াস এক’শ ৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ছেলেকে হারিয়ে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এলাকাবাসী হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসির দাবি করেছেন।
পুলিশ বলছে, নিহত ওই শিক্ষার্থী তার বন্ধু পিয়াসের কাছে কয়েক হাজার টাকা পাইতো তাই পাওনা টাকা চাওয়ায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ঘাতক বন্ধু পিয়াস। শেষ পর্যন্ত ভাড়াটে আরও কয়েকজনকে নিয়ে তিনি তাকে হত্যা করেন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার এস আই মোখলেছুর রহমান বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে খুব শীঘ্রই তারা গ্রেপ্তার হবেন বলে আশা করেন তিনি।
Leave a Reply