বাংলা ফটো নিউজ (দেলোয়ার হোসেন মৃধা, লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুর জেলার হাট-বাজারগুলো নিম্নমানের ভেজাল সার ও কীটনাশকে সয়লাব। ভেজাল কীটনাশকের এমন রমরমা ব্যবসার ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে জেলার ৫টি উপজেলার সর্বত্রই। অধিকাংশ কীটনাশকের দোকানে ব্যাপকহারে ভেজাল কীটনাশক ও নিম্নমানের সার বিক্রি হলেও সাধারণ কৃষক বুঝতে পারছেন না এবং ন্যায্য মূল্য দিয়েও তারা প্রতারিত হচ্ছেন। এতে করে কৃষকদের ঠকিয়ে লাভবান হচ্ছে অসাধু কীটনাশক কোম্পানিগুলো। সীমান্ত পার হয়ে অধিকাংশ নিম্নমানের ও ভেজাল কীটনাশক প্রবেশের পাশাপাশি দেশে তৈরি করা নকল কীটনাশকও খুব সহজে পৌছে যাচ্ছে কৃষকের জমিতে।
কীটনাশকের প্যাকেটের লেবেলগুলোর লেখা একদম অস্পষ্ট, নেই কোনো উৎপাদন তারিখ এবং রেজি. নং। একই সঙ্গে ওষুধের প্যাকেটের গায়ে শুধু মেইড বাই ঢাকা, চীন ও ইন্ডিয়া লেখা থাকলেও কোম্পানির পূর্ণ ঠিকানা লেখা নেই। দোকানগুলোতে বেশি মাত্রায় যেসব ভেজাল ও নকল কীটনাশক সাজিয়ে রাখা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে_ ‘ম্যাগনেশিয়াম, বোরাক্স, বোরন, জিপসাম, সালফার, ম্যাটালিক্স, দানাদার কীটনাশক, কার্বোফুরান, ডায়াজিন, এসওপি ম্যাকোজিব, গ্যানাসর দস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ওষুধ।’ আর যেসব কোম্পানির ওষুধ ও কীটনাশকে লেবেলে উৎপাদন তারিখ, ব্যাচ নং এবং ঠিকানা উল্লেখ নেই সেগুলোর মধ্যে ফেমাস এগ্রো, এসএম এগ্রো, এসবি এগ্রো ঢাকা, পেজ এগ্রো, সুরভী এগ্রো, এগ্রো লাইফ উল্লেখযোগ্য। এসব ওষুধ কোম্পানির বোতলের লেবেলে কোনো ধরনের উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া নেই। দীর্ঘদিন থেকেই এসব ভেজাল কীটনাশক গ্রামের সাধারণ কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন। এসব অস্তিত্ববিহীন কোম্পানি নামে-বেনামের ভেজাল ও নকল ওষুধগুলো সহজ-সরল কৃষকদের কাছে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
এ নিয়ে একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। কৃষকরা জানান, তারা আসল ও নকল বুঝতে পারছেন না। দোকানের ভেতরে গোপনে মজুদ করে রাখা হয় নকল ও ভেজাল কীটনাশক। ক্রেতারা এলেই সেখান থেকে বের করে সরবরাহ করা হয়। এ সময় ক্রেতাকে নিশ্চিন্তেই ব্যবহার করার পরামর্শও দিয়ে থাকেন দোকান মালিকরা।
নকল সার ও কীটনাশক বিনষ্ট এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সব জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।’ এছাড়াও প্রতি তিন মাস পরপর কীটনাশক টেস্ট করার কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয়ের এ আদেশ সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
Leave a Reply