বাংলা ফটো নিউজ : আসি-আসি করছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর যথারীতি চাহিদা বেড়ে গেছে দেশীয় ঢোল-তবলাসহ সব রকমের দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের। শুরু হয়ে গেছে পুরনো ঢাক-ঢোল, করকা, তবলা, খোল, করতাল, একতারা, দোতারা, খমর, খঞ্জনী, লাল, ঢোলক, ডমরুসহ সাইড ড্রাম মেরামতের কাজ। নতুন ঢোল-তবলাসহ পুরনো মেরামতের অর্ডার সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সাভারের কারিগররা। পহেলা বৈশাখে সারাদেশের অন্যসব স্থানের মতো ঢাকার সাভারও সাজবে বর্ণিল সাজে। আবহমান কাল ধরে এই ১লা বৈশাখকে বুকে ধারণ করে লালন করে আসছে বাঙালি।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) সকালে সাভার বাজার রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢোল-তবলা মেরামতের কারিগরেরা। এই ব্যস্ততার মধ্যেই কথা হয় আড়াপাড়া এলাকার হৃদয় তবলা বিতানের কর্ণধার মদন কুমার দাসের সঙ্গে।
মদন কুমার দাস বলেন, বৈশাখে বেড়ে যায় দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা। এর কারণ দেশের প্রায় প্রতিটি জায়গায় পহেলা বৈশাখে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এসব অনুষ্ঠানে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা অনেক বেশি। তাছাড়াও বাসাবাড়ি,বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের লোকেরা কিছু কিছু করে ক্রয় করেন। এসব দেশীয় বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হয় ২শত টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। সাধারণ ঢুলিদের কাছে তিনি বেশ কম দামেই নিজেদের হাতে তৈরি বাদ্যযন্ত্র বিক্রি করে থাকেন।
এছাড়াও কথা হয় সাভারে বাজার রোডের উদ্দীপন মিউজিক্যালস এর মালিক উদ্দীপর সরকারের সাথে। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার অনেক বেড়ে যায়। দেশীয় বাদ্যযন্ত্রগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হলে এর আধুনিকায়ন যেমন জরুরি, তেমন জরুরি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাও। তা না হলে বাংলার ঐতিহ্য ঢাক-ঢোল,তবলা একতারা,দোতারা একদিন হারিয়ে যাবে। হয়ে যাবে অতীত।
Leave a Reply