বাংলা ফটো নিউজ : রাজবাড়ী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছে। দুটি ঘটনাতেই পুলিশ বলেছে, নিহত ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী। এদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা আছে। গতকাল সোমবার গভীর রাত ও আজ মঙ্গলবার ভোররাতে এসব ঘটনা ঘটে।
রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ সূত্র জানায়, আজ ভোররাত চারটার দিকে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সাইদুর রহমান (৩২) নিহত হন। তাঁর বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার আটঘরিয়া গ্রামে। রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনি ইউনিয়নের জৌকুড়া ফেরিঘাট এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধ হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক কামাল বলেন, জৌকুড়া ফেরিঘাট এলাকায় একদর সন্ত্রাসী বৈঠক করছে—এমন খবর আজ ভোররাত চারটার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গুলিতে সাইদুর রহমান নিহত হন। গোলাগুলির সময় অন্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
তারিক কামাল জানান, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জেলার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খান, ডিবির ওসি জিয়ারুল ইসলাম ও পুলিশ কনস্টেবল পঙ্কজ মণ্ডল আহত হন।
তারিক কামাল বলেন, নিহত সাইদুর রহমান চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যার মামলাসহ অন্য মামলা আছে। আজ সকাল ১০টায় পুরো ঘটনা সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় উপজেলায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটকের এক দিন পর পুলিশের হেফাজতে থাকা খোকন সূত্রধর (৩০) নামের এক ব্যক্তি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। গতকাল দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার বাইপাস রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলি ও একটি চাপাতি উদ্ধার করে।
পুলিশের ভাষ্য, সহযোগী অন্য ছিনতাইকারীদের গুলিতে খোকন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তাঁর বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় ১৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের একটি মামলা রয়েছে।
আখাউড়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন তরফদার জানান, গতকাল সকালে ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানির আখাউড়ার ব্যবস্থাপক মানিক দেবনাথ (৩৩) কোম্পানির ১৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯২০ টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা দিতে যান। এ সময় খোকন সূত্রধরসহ তিনজন মানিকের পথরোধ করে মারধর করেন। তখন তাঁরা মানিকের ডান কানে ছুরিকাঘাত, মাথা ও শরীরের অন্যান্য জায়গায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। পরে তাঁর কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন খোকনকে আটক পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে অন্য ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে খোকন তাঁর সহযোগীদের নামসহ পুলিশকে তথ্য দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাত তিনটার দিকে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় উপজেলার বাইপাস রেলগেট এলাকায় ওত পেতে বসে থাকা খোকনের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। তখন আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় তাঁর সহযোগীদের গুলিতে খোকন আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি জানান, বন্দুকযুদ্ধে আখাউড়া থানার পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নুরুল ইসলাম, কামাল হোসেন ও কনস্টেবল শামীম আহত হয়েছেন। তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওসি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply