বাংলা ফটো নিউজ : বরিশাল নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসি, ওসি এবং ৪ নারী কনস্টেবলসহ সাতজন আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর ফজলুল হক এভিনিউতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে জেলা বাসদের সদস্য সচিবসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন- রিকশা শ্রমিক-মালিক সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন, নাসরিন আক্তার টুম্পা, মিঠুন চক্রবর্তী, নুরুল ইসলাম এবং জাকির হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশাল নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উচ্ছেদ বন্ধ করা ও অবিলম্বে লাইসেন্স দেয়ার দাবিতে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধন করে ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিক-মালিক সংগ্রাম কমিটি। এর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের নেতাকর্মীরা। এরপরে থালা-বাসন নিয়ে ভুখা মিছিল বের করে রিকশা শ্রমিকরা। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এরপর নেতাকর্মীরা সিটি করপোরেশনে স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে রিকশা শ্রমিক ও বাসদের নেতাকর্মীরা বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে অবস্থান নেন। এসময় পুলিশ তাদের স্থান ত্যাগ করতে বললে পুলিশ ও রিকশা শ্রমিকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ রিকশা শ্রমিকদের উপর লাঠিচার্জ করলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় গ্রুপের ২০ জন আহত হন।
পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আহতরা হলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডের থানা পুলিশের সহকারী কমিশনার শাহনাজ পারভীন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো. আওলাদ হোসেন, এসআই নজরুল ইসলাম, কনস্টেবল শারমিন, ইতি, সুরমা ও সাদিয়া। এছাড়াও রিকশা শ্রমিক ও বাসদের প্রায় ১৩ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন জানান, ডা. মনিষার নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী ফজলুল হক এভিনিউ জেলা আদালত ভবনের প্রধান ফটকের সড়ক দখল করে বিক্ষোভ করায় সেখানে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
অবরোধকারীরা কামড়ে, আঁচড়ে এবং প্ল্যাকার্ড দিয়ে নারী পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশের সাতজন আহত হন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ডা. মনিষাসহ ৬ জনকে আটক করা হয়।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) শাহনাজ পারভীন জানান, পুলিশের ওপর হামলা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
Leave a Reply