1. rowshonsavar@gmail.com : admin2021 :
  2. rowshonsavar@gmail.com : Rowshon Ali : Rowshon Ali
April 22, 2026, 10:04 am
শিরোনামঃ
অবশেষে অনিয়ম ঠেকাতে সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শনিবার সাভারে যেসব এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৫০ কোটি টাকা সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন জমা দিলেন বিএনপি নেত্রী মিনি আক্তার সাভার-আশুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে গ্যাস সরবরাহ আশুলিয়ায় দুই যুবক গুলিবিদ্ধ, ২ লাখ টাকা ছিনতাই আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা খোলার দাবি সাভারে কোরআন অবমাননার অভিযোগে মা-মেয়ে গ্রেপ্তার ডিবির জালে ধরা আন্তঃ জেলা ডাকাত ও কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য সাভারে শিশুর চোখে সুপার গ্লু ঢেলে নির্যাতনের অভিযোগ

নির্বাচনী বছরে পদে পদে হয়রান বিএনপি

  • আপডেট টাইম : Wednesday, May 9, 2018
  • 368

বাংলা ফটো নিউজ : জাতীয় নির্বাচনের বাকি আর মাত্র সাত-আট মাস। শাসক দল আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচন সামনে রেখে নানামুখী প্রচারণা ও ফের ক্ষমতায় আসার কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত, অন্য দিকে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপিকে রাখা হয়েছে চতুর্মুখী চাপে। পদে পদে হয়রানির শিকার হওয়ায় এককভাবে নির্বাচন ইস্যুতে দলটি মনোযোগ দেয়ার কোনো ফুরসত পাচ্ছে না। দলটির প্রধান বেগম খালেদা জিয়া একটি মামলায় তিন মাস ধরে কারাভোগ করছেন।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটি ‘জামিনযোগ্য’, কিন্তু নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে কি না তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। একেবারেই সঙ্কুচিত করে রাখা হয়েছে বিএনপির সভা-সমাবেশের অধিকার। ঘরোয়া কোনো বৈঠকও করতে পারছে না তারা। সাম্প্রতিক সময়ে গোপন বৈঠকের কথা বলে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। কারাগার আর আদালতের বারান্দায় দিন কাটছে বহু নেতাকর্মীর। আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন, এমন সব নেতারাও রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠিন প্রহরার মধ্যে।

রাজনীতি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নির্বাচনী বছরে একটি বড় দলকে এভাবে কোণঠাসা করে রাখা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে বড় বাধা। তাদের মতে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচনের প্রেক্ষিত থাকার পরও একাদশ নির্বাচন নিয়ে সরকারি দলের কট্টর অবস্থার পরিবর্তন না হওয়া অশনি সঙ্কেত।

আগামী অক্টোবরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে। সে হিসাবে নির্বাচনের খুব একটা সময় নেই। নির্বাচন প্রস্তুতির এই সময় রাজনীতির মাঠ দারুণভাবে অসমান্তরাল। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে তুুমুলভাবে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা আরো ছয় মাস আগে থেকেই নির্বাচনী সমাবেশ করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও রয়েছেন নির্বাচনী মাঠে। অথচ ঠিক বিপরীত চিত্র বিএনপিতে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় দলটির নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাদণ্ড হয় বেগম খালেদা জিয়ার। এর ফলে চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবি এখন দলটির প্রধান এজেন্ডা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এ দাবিতে দলটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়েও মাঠে নামতে পারছে না। গত দুই মাসে বিএনপির কর্মসূচিতে আরো বেশি বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে সরকার। বলতে গেলে কোনো কর্মসূচিরই অনুমতি পাচ্ছে না তারা। ঢাকায় একটি সমাবেশের অনুমতির জন্য দলটি হেন কোনো চেষ্টা নেই যা করেনি; কিন্তু তারপরও কাজ হয়নি। ঢাকার বাইরে যেসব সমাবেশ হচ্ছে, তাও বিধিনিষিধে মোড়া। দলটি পছন্দসই কোনো জায়গায় সমাবেশ করতে পারছে না। গ্রেফতার আতঙ্কে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে সমাবেশগুলো হচ্ছে।

বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন দলের ওপর সরকারি স্টিম রোলারের বর্ণনা দিয়ে বলেন, গত সাড়ে ৯ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৬০ হাজার। এসব মামলার আসামি সংখ্যা ২০ লাখ। এরই মধ্যে এক লাখ ১০ হাজার নেতাকর্মী জেল খেটেছেন। তিনি বলেন, বিএনপির তিন হাজার নেতাকর্মীকে এই সময়ে খুন করা হয়েছে। গুম করা হয়েছে ৭২৮ জনকে। গুম হওয়া কিছু নেতাকর্মীর লাশ পাওয়া গেলেও অধিকাংশেরই কোনো হদিস নেই।

বিএনপির তথ্য অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের পর গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ হাজার নেতাকর্মীকে।

এই সময়ে ঢাকায় কয়েকটি কর্মসূচি থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ধরন ছিল ভিন্ন। বেশ কয়েকজন নেতাকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ধরনের গ্রেফতার অভিযানের মধ্য দিয়ে ঢাকা মহানগরীতে বিএনপির কর্মসূচিকে অনেকটাই সীমিত করে ফেলা হয়েছে। দলটি যেসব বিক্ষোভ-মিছিলের কর্মসূচি দিচ্ছে, তা ঝটিকাভাবে পালন করা ছাড়া এখন আর কোনো গত্যন্তর থাকছে না।

বিএনপি ঘরে বসে কোনো সাংগঠনিক প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডও সাবলীলভাবে করতে পারছে না। সাম্প্রতিক সময়ে গোপন বৈঠকের নাম দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। গত মাসে গোপন বৈঠকের অভিযোগে রাজধানী থেকে বিএনপির ১৭ জন নেতা ও নড়াইলে ৫৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশি অভিযানের বাইরে দলের সিনিয়র বহু নেতা দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) জালে রয়েছেন। তাদের যেমনি আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে, তেমনি দুদকের তলবেও সাড়া দিতে হচ্ছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দল পুনর্গঠনের প্রধান সমন্বয়ক মো: শাহজাহান বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নয়, বিরোধী দলকে নির্মূল করার এজেন্ডা হাতে নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসার নীলনকশা প্রণয়ন করছে সরকার। দেশের জনগণ যেখানে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে, সেখানে সরকার আবারো ভোটছাড়া ক্ষমতায় আসতে চায়। বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সব ধরনের দাবি আদায়ের পক্ষে রয়েছে। কিন্তু যেভাবে বিরোধী দলকে হেনস্থা করা হচ্ছে, তাতে করে তাদের আন্দোলন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা ছাড়া উপায় নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bangla Photo News
Theme Customized By BreakingNews