বাংলা ফটো নিউজ : ‘ওয়াও’—শব্দটি যেন অস্ফুটেই সবার মুখ থেকেই বের হয়ে এল ফ্রি কিক থেকে দীপক রায়ের গোলটি দেখে। এমন গোলের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করে উপায় আছে?
২৭ মিনিটে বাম প্রান্তে থেকে নেওয়া দীপকের ধনুকের মতো বাঁকানো ফ্রি কিকটি দূরের পোস্ট দিয়ে সরাসরি জড়িয়েছে জালে। ৮৭ মিনিটে তাঁর এই দুর্দান্ত গোলেই শেখ জামালের বিপক্ষে ২-২ সমতায় ফেরে আবাহনী লিমিটেড। একে তো দুর্দান্ত গোল, তাঁর ওপর আবার সেই গোলে সমতায় ফিরেছে দল। এই সমতার সুবাদেই খেলা গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে, সেখান থেকে টাইব্রেকারে। স্নায়ুচাপের সেই পরীক্ষায় ৫-৪ গোলের জয় নিয়ে আবাহনী পৌঁছে গেছে অনূর্ধ্ব–১৮ ফুটবলের সেমিফাইনালে।
দীপকের নামটি আসলেই চলে আসে এএফসি অনূর্ধ্ব–১৬ বাছাইপর্বে কাতারের মাটিতে তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২-০ গোলে জয়ের গল্প। ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশটির বিপক্ষে প্রথম গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন দীপকই। অনেক দিন পরে দুর্দান্ত গোল করে আবারও আলোচনায় দীপক।
তবে দীপকদের চেয়ে আজকের ম্যাচে বল পজিশন ও পরিকল্পনায় অনেক এগিয়ে ছিল শেখ জামাল। প্রথমে গোল হজম করলেও ম্যানুয়েল সোরেনের জোড়া গোলে এগিয়েও গিয়েছিল দলটি। কিন্তু দীপক আবাহনীকে সমতায় ফেরানোর পর টাইব্রেকারে ম্যাচটি হাতছাড়া হয়ে যায় শেখ জামালের।
প্রথমার্ধের ১০ মিনিটেই আপন চন্দ্রের গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী। ডান প্রান্ত থেকে রিমনের ক্রসে গোলমুখ থেকে হেডে গোলটি করেন আপন। গোল হজমের পর ম্যাচের নাটাই নিজেদের হাতে তুলে নেয় শেখ জামাল। দলটির রাইট উইঙ্গার ইউসুফ আলি জীবনকে তো আটকে রাখতেই পারছিলেন না আবাহনীর লেফট ব্যাক।
৩৭ মিনিটে এই জীবনের ক্রসেই হেডে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন ম্যানুয়েল সোরেন। ৪৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটিও তাঁর। আবাহনী গোলরক্ষক আরিফুলের হাত ফসকে বল বের হয়ে গেলে ফিরতি বলে টোকা দিয়ে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি সোরেন।
জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক হতে পারতেন সোরেনই। কিন্তু ফ্রি কিক থেকে সমতাসূচক দুর্দান্ত গোলটি করে ম্যাচের নায়ক বনে গেলেন দীপক। শেষ পর্যন্ত তাঁর দলও পেয়েছে জয়। শুক্রবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আরামবাগের মুখোমুখি হবে আবাহনী।
Leave a Reply