বাংলা ফটো নিউজ : নওগাঁর মান্দায় আরতী রানী নামে এক হিন্দু শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বরখাস্তের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কান্ড শুরু হয়েছে উপজেলার বিলবয়রা গয়েশীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। এদিকে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিতের অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে প্রধান শিক্ষক এবং সচেতন অভিভাবক মহল অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের সাথে কথিত অসুস্থতার জন্য অনুপস্থিতির ছুটি নিয়ে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কাব্যতীর্থ) আরতী রানী। বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে নানা মতবিরোধ দেখা দেয় আরতী রানীর। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার উন্নতির জন্য ওই শিক্ষকের উপস্থিতি কামনা করছিলেন। গত ১৮ মার্চ অভিযুক্ত শিক্ষক আরতী রানী অহেতুক অসুস্থতার ভান করে বিদ্যালয়ের পাঠদান ফাঁকি দিয়ে মোবাইলফোনে প্রধান শিক্ষকের কাছে ছুটির আবেদন করেন। প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান ছুটি মঞ্জুর না করে শিক্ষক আরতী রানীকে যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
স্থানীয়রা জানান, সময় মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে না পারায় আরতী রানীকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেয়া হয়নি বলে তারা শুনেছেন। পরে এ বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক তার কক্ষে অন্য শিক্ষকদের সাথে এক বৈঠকে বসেন। প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান সেখানে অন্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তাকে ভদ্র ভাষায় সঠিকভাবে এবং সময় মতো হিন্দু শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে অনুরোধ করেন। এ কারণে ওই শিক্ষিকার সাথে তার চরম বাকবিতন্ডা শুরু হয়। তুচ্ছ এ ঘটনাটি নিয়ে এবং সংখ্যালঘু হিন্দু শিক্ষিকা হওয়ার সুবাদে বেশি সুবিধা নিতে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ঠের অপচেষ্ঠা ও পাঁয়তারা করে চলেছেন আরতী রানী। আর এ তুচ্ছ এ ঘটনার প্রতিবাদে পাঠদান বর্জন করেছে মাত্র ১৯ হিন্দু শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত মাত্র ১০/১২জন শিক্ষার্থীরা। গত দুদিন ধরে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কোনো পাঠদানে অংশ নিচ্ছে না ঐ ১০/১২জন শিক্ষার্থীরা। আরতীর রানীর এ কান্ডে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি মানেন না শিক্ষক আরতী রানী। ছুটি ছাড়াই যখন তখন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। খেয়াল খুশিমত বিদ্যালয়ে আগমন ও প্রস্থান করে থাকেন। গত ১৮ র্র্মাচ সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন শিক্ষক আরতী রানী। অসুস্থতার কারণে কোন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখাতে সক্ষম হননি বলে তিনি দাবী করেন। গত ১৯ মার্চ ও ২১ এপ্রিল শিক্ষক আরতী রানীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। নোটিশ দুটির জবাবে তেমন কোনো কারণ উল্লেখ ছিল না। এ অবস্থায় জবাবে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে গত ৯ মে চাকরি থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসব কথা বলায় শিক্ষকদের উপস্থিতিতে আরতী রানী জুতা দিয়ে তাকে মারতে উদ্যত হয়েছিলেন। এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির অনুমতিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সাময়িক বরখাস্তের পর থেকে চাকরি টিকিয়ে রাখতে সংখ্যালঘু তকমা নিয়ে শুধুমাত্র কিছু হিন্দু শিক্ষর্থীর ভুল বুঝিয়ে পাঠদানে বাধাগ্রস্থ করে বিরত থাকতে বাধ্য করছে। যা সর্ম্পূণ অন্যায়। তবে বিদ্যালয় পুরোপুরি সুষ্ঠুভাবে চলছে। কোনো সমস্যা হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালাম বিষয়টি অবহিত রয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করার চেষ্ঠা চলছে।
Leave a Reply