বাংলা ফটো নিউজ (দেলোয়ার হোসেন মৃধা, লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের গ্রাম আদালত গুলোতে প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছে জনসাধারণ। জেলার ৫টি উপজেলায় ও একটি থানায়,গ্রাম আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তির নামে স্থানীয় জনগোষ্ঠী চরমভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।
জেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের গ্রাম আদালত আইন বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকায় আইন লঙ্গনের ঘটনায় জর্জরিত হয়ে পড়ছে বিচার প্রার্থীরা। আবার যেসব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এই আইন সম্পর্কে জানেন, তারাও আইনের সঠিক প্রয়োগ না করায় এ জেলায় গ্রাম আদালত কার্যক্রমের উপর অনেকটা আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন সাধারণ মানুষ।
গ্রাম আদালতে ধর্ষণ, খুন, অপহরণ, ডাকাতি, বহুবিবাহ, তালাক, ভরণ পোষণ, অভিভাবকত্ব, দেনমোহর, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন, রক্তপাতের ঘটনা, স্থাবর সম্পত্তির স্বত্বাধিকার সংক্রান্ত বিরোধ ও ৭৫ হাজার টাকার অধিক মূল্যমানের যে কোন বিরোধ নিষ্পত্তি করার বিধান না থাকলেও এইসব অধিকাংশ ঘটনার সমাধানের নামে বিচার প্রার্থীদের হয়রানী করার অভিযোগ ব্যাপক।
অন্যদিকে জেলার গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে বিরাজমান ছোট ছোট দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিরোধ স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালতের ব্যবস্থা থাকলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগন বিচার প্রার্থীদের আদালতের ধারস্থ হওয়ার পরামর্শ করেন। আদালতে বিচারের নামে চলছে হয়রানী।
জেলার সুশীল সমাজ ও একাধিক ভোক্তভোগী বিচার প্রার্থীরা বলেন, গ্রাম আদালত পরিচলনা করতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের গ্রাম আদালত বিষয়ে আইন-কানুন জানা প্রয়োজন। কিন্তু জেলার অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পড়া-লেখা না থাকায় এ বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না তারা। যার কারণে গ্রাম আদালতে বিচার প্রার্থীরা অনেক সময় হয়রানীর শিকার হন।
গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করে তুলতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য গ্রাম আদালত বিষয়ে কর্মশালা, মতবিনিময় সভার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
Leave a Reply