বাংলা ফটো নিউজ : দৈনিক যায়যায়দিন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল২৪ ও এবি নিউজের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি কাজী নজরুল ইসলামকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিটি দায়ের করেন সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম। পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমরা বিষয়টি যাচাই বাছাই করে দেখতেছি।
থানায় করা সাধারণ ডায়েরি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল২৪ এর সাংবাদিক সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রকল্প বলে খ্যাত “ভিটা আছে ঘর নেই” এমন হতদরিদ্র লোকদের গৃহনির্মাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৫০০ দরিদ্র লোককে গৃহনির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করা হচ্ছে মর্মে তথ্য পেয়ে সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহকর্মীরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সময় প্রকল্পের প্রত্যক্ষ উপকারভোগী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে অনিয়ম হওয়ার বিষয়ে ব্যাপক প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথাও জানা যায়। ইউএনও কর্তৃক সম্পাদিত অনিয়ম বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে জানতে পেরে ইউএনও জিয়াউর রহমান সাংবাদিক কাজী নজরুলের প্রতি ক্ষীপ্ত হয়ে তার সহকর্মীদের মারফত নানা ধরনের গালিগালাজসহ তাকে জীবন নাশেরও হুমকি দিতে থাকেন।
গত ২০ জুলাই শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার সময় ইউএনও জিয়াউর রহমান শরীয়তপুর সদর উপজেলা চত্বরে চলমান বৃক্ষমেলার একটি স্টলে বসে ডিবিসি নিউজ টেলিভিশনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি বিএম ইশ্রাফিলকে ডেকে নিয়ে তার কাছে অযাচিত ভাষায় উচ্চস্বরে সাংবাদিক কাজী নজরুলকে গালিগালাজ করেন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করেন। এরপর ২১ জুলাই দুপুর দেড়টার সময় শরীয়তপুর জেলা শহরের দুবাই প্লাজায় অবস্থিত চিকন্দী ফুড পার্কে একটি জনাকীর্ণ পরিবেশে বি,এম ইশ্রাফিলের কাছে পুনরায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজী নজরুলকে গালিগালাজ করতে থাকেন ইউএনও জিয়াউর রহমান। এক পর্যায়ে তিনি বি,এম ইশ্রাফিলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “সাংবাদিক নজরুলকে আমি গুলি করে মেরে ফেলব। ওর মতো সাংবাদিককে মেরে ফেললে কিছুই যায় আসে না। আমার নাম জিয়াউর রহমান। আমি যা বলি তা করে দেখাই। ওকে আমার অফিসে নিয়ে হাত পা বেঁধে অফিস থেকে লাথি মারতে মারতে নিচে ফেলে দিব ইত্যাদি”। এ ছাড়াও তিনি নজরুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করার হুমকি দেন।
সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আমাকে প্রকাশ্যে জীবন নাশের হুমকি দেয়ার বিষয়টি ২১ জুলাই রাত ১০টার দিকে সাংবাদিক বি,এম ইশ্রাফিলের কাছ থেকে জানতে পারি। এরপর আমি ইউএনও জিয়াউর রহমানকে রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে মুঠোফোনে ফোন করে বিষয়টি জানার চেষ্টা করলে, তিনি আমার পরিচয় জানতে পেরেই আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং আমাকে এই বলে হুমকি দেন যে, “আপনি তো আমাকে চিনেন না, আমার অফিসে আসেন আপনাকে দেখিয়ে দিব আমি কে, আমাকে আর ফোন করলে আপনার গলা কেটে ফেলব, আপনি একজন অকৃতজ্ঞ, আপনি সাংবাদিক নামের কলংক, আপনি দুই টাকার সাংবাদিক, আপনি আমার বালের সাংবাদিক, ইত্যাদি”। এরপর ওই সাংবাদিক বিষয়টি শরীয়তপুরের সহকর্মী ও অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবিসি নিউজ টেলিভিশনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের শরীয়তপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক বি,এম ইশ্রাফিল বলেন, পর পর দুইদিন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান প্রকাশ্য জনসম্মুখে আমাকে ডেকে নিয়ে আমাদের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলামকে জীবন নাশের হুমকি দিয়েছেন। তাকে মামলায় জড়ানোর কথা বলেছেন। তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেধে পেটাতে পেটাতে নিচে নামিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নজরুলকে আমি গুলি করে মেরে ফেলবো। ওর মত সাংবাদিক মেরে ফেললে আমার কিছুই হবে না। আমার নাম জিয়াউর রহমান। আমাকে সে চিনে না। আমি যা বলি তা আমি করে দেখাই। আপনি ওকে বলবেন, আমি ওকে গুলি করে মেরে ফেলব।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দেননি বলে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন। তার দাবি সাংবাদিক কাজী নজরুলের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই।
Leave a Reply