বাংলা ফটো নিউজ : বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক (এডি) সাজাহান কবিরকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার প্রধান আসামি যুবলীগ নেতা ও বগুড়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তাকিম রহমানসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে দিনাজপুরের হাকিমপুরে ডাঙ্গাপাড়ার সাতকুড়ি বাজার থেকে মোস্তাকিমকে গ্রেফতার করে বগুড়া ডিবি পুলিশ।
সাজাহান কবিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী শাজেনুর রহমান শাজাহানপুর থানায় ১৬ জনের নামে মামলা করেন।
বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম জানান, ঘটনার পর থেকে হামলাকারীদের সনাক্তে কাজ শুরু করে পুলিশ। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ইন্টেলিজেন্স উইং এবং দিনাজপুর জেলা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের এডি সাজাহান কবিরের ওপর হামলা মামলার প্রধান আসামি মোস্তাকিমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি হাকিমপুর হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আরেকটু পর গেলেই তিনি ভারতে পালিয়ে যেতেন। ঘটনার সাথে জড়িত আরো ৩ জনকে গ্রেফতার ও ১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- সুত্রাপুরের রমজান আলীর ছেলে হাসান আলী (২৬), ঠনঠনিয়া হিন্দুপাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ জীবন (২১), ঠনঠনিয়া মধ্যপাড়ার আবু তালেবের ছেলে রাসেল মিয়া (৩০)। এছাড়া সন্দেহমূলকভাবে মিলু (২২) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। মোস্তাকিমকে দিনাজপুর থেকে গ্রেফতার করা হলেও অন্যদের বগুড়া শহরের খান্দার ও ঠনঠনিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই মোস্তাকিমের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় অপকর্ম করে আসছিল।
মেহেরপুরের বাসিন্দা বগুড়ার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের এডি সাজাহান কবির বগুড়ায় যোগ দিয়েই তার কার্যালয় থেকে দালালমুক্ত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এতে করে দালালমুক্ত হয় পাসপোর্ট অফিস। পরে তিনি কার্যালয় চত্বরে একটি অভিযোগ বক্স রাখেন। সেখানে তিনি অভিযোগ ও সেবা পাওয়া, কোন কর্মকর্তার সেবা কেমন পেয়েছেন সে বিষয়েও লিখিতভাবে জানাতে বলেন। এসব কারণে দালালরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। বগুড়ার পাসপোর্ট অফিস ঘুষ, দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করার কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া কয়েকদিন আগে তার অফিসে গিয়ে গ্রেফতারকৃতরা আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছিল। সেই সুবিধা না দেয়ার কারণে তার সাথে বাকবিতণ্ডাও হয়। এরপর তার ওপর এ হামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার হাতে রয়েছে।
ডিবির ওসি নুরে আলম সিদ্দিকি জানান, মোস্তাকিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।
পৌর কাউন্সিলর মোস্তাকিমের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা সুজানুর রহমান সুজন হত্যাকান্ডসহ চাঁদাবাজি, মারপিট ও জমি দখলের একাধিক মামলা রয়েছে। তার একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনীর সদস্যরা শহরের সুত্রাপুর, খান্দার, মালগ্রাম, সিলিমপুর, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কৈগাড়ি, ফুলবাড়ি, ফুলদীঘি, ঠনঠনিয়া ও হিন্দুপাড়া এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলই এদের প্রধান কাজ।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক (এডি) সাজাহান কবির অফিস থেকে বের হয়ে রিক্সযোগে বগুড়া শহরের শাকপালা মোড়ে যাওয়ার সময় কৈগাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল যোগে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এসময় সাজাহান কবির সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে দৌঁড়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি অফিস কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানেই দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। তাকে আহত অবস্থায় প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।
Leave a Reply