বাংলা ফটো নিউজ : সাভারে শিশু গৃহকর্মী (১২) ধর্ষণ মামলায় এক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। এর আগে বুধবার রাতে ওই ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে মামলা হয়। মামলার বাদী ‘ভুক্তভোগী’ গৃহকর্মীর বাবা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ওমর ফারুক (৩৭)। তাঁর বাড়ি সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ঝাউচর মধ্যপাড়া গ্রামে। তাঁর স্ত্রীর নাম রাজিয়া সুলতানা (৩০)।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তাঁর বাড়ি শেরপুরের নকলায়। অভাবের কারণে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে বছর তিনেক আগে কাজের জন্য তাঁর মেয়েকে ওমর ফারুকের বাসায় দেন। তখন তাঁর মেয়ের বয়স ছিল নয় বছর। এরপর থেকে ওমর ফারুক তাঁর মেয়ের পারিশ্রমিক বাবদ কোনো টাকা দেননি। টাকা না পেয়ে তিনি মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিকবার ফারুকের বাসায় যান। মেয়েকে না দিয়ে প্রতিবারই নানা ভয়ভীতির মুখে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে তিনি মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য ফারুকের বাসায় যান। এ সময় তিনি তাঁর মেয়েকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। কারণ জানতে চাইলে ফারুক ও তাঁর স্ত্রী নানা টালবাহানা করতে থাকেন। বিষয়টি তিনি আশপাশের লোকজন ও স্বজনদের জানালে তাঁরা ওই বাসায় গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করেন।
পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় ‘ভুক্তভোগী’ কিশোরী বলে, মাস ছয়েক আগে ওমর ফারুক তাকে প্রথম ধর্ষণ করেন। ঘটনার পরে সে বিষয়টি ফারুকের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাকে জানালে রাজিয়া কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে মারধর করেন। পাশাপাশি তার বাবা-মা বা প্রতিবেশী কাউকে জানালে তাকে খুন করারও হুমকি দেন (রাজিয়া)। এরপর থেকে স্ত্রীর সহযোগিতায় ফারুক গত ছয় মাস ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিলেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার দুপুরে ফারুক তাঁকে ধর্ষণ করেন। কিশোরীর ভাষ্য, ভয়ে সে সব চেপে যেত।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সওগাতুল আলম বলেন, মামলা দায়েরের পর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রাতেই ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজিয়া সুলতানা পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ফারুককে ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। আর মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply