বাংলা ফটো নিউজ : সাভারে উদ্ধার বস্তাবন্দী নারীর মৃতদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে। সেই সাথে ওই নারীকে হত্যার সাথে জরিত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। আজ রবিবার সকালে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বিয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতের নাম মোসাঃ হাজিরা বেগম টুকটুকি (২০)। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে। সে স্বামী মিল্লাতের সাথে সাভার পৌর এলাকার বনপুকুর মহল্লায় ভাড়া থাকতো এবং মিল্লাত সাভারের ফুটপাতে ব্যবসা করতো।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ ডিসেম্বর গৃহসবধু টকটুকিকে মোবাইল করে বাড়ি থেকে উত্তর জামসিং এলাকায় ডেকে নেয় জনি। পরে তার দুই সহযোগী সেলিম ও জুয়েলসহ তিন জন মিলে দলবদ্ধ ধর্ষনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর মৃতদেহটি প্রথমে জনির বাড়িতে ওয়্যারড্রপে রেখে দেয় এবং সেটি গুম করার জন্য সুযোগ খুজতে থাকে। পরে ২৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে টুকটুকির মৃতদেহটি জামসিং এলাকায় ফেলে রেখে যায়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে স্থানীয়দের খবরে সাভার পৌর এলাকার উত্তর জামসিং মহল্লার একটি নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে টুকটুকি নামে এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দী মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় নিহতের মোবাইল ফোনে গ্রেপ্তারকৃত জনির নাম্বার সেভ করা ছিলো। সেই সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ রবিবার তাদেরকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আর বলেন, মূল ঘাতক জনির সাথে নিহতের প্রেমের সম্পর্ক থাকায় জনির ডাকে সে উত্তর জামশিং এলাকায়। সেখানে একটি নির্মানাধীন পরিত্যক্ত ভবনের ভিতরে জনি ও তার সহযোগীরা দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে টুকটুকিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
উল্লেখ্য গত ২৮ ডিসেম্বর মোসাঃ হাজিরা নামে এক নারীকে হত্যার পর দুই হাত নীল মোজা দিয়ে বেঁধে এবং গলায় গামছা পেচানো অবস্থায় একটি সাদা প্লাষ্টিকের বস্তায় ভরে জামসিং এলাকার মনতাজের নির্মানাধীন বাড়ির পাশে খালি জায়গায় মৃতদেহটি গুম করার উদ্দেশ্যে ফেলে রাখে হত্যাকারীরা। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
Leave a Reply