বাংলা ফটো নিউজ : পাখি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পাখ পাখালি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে প্রতিবারের মতো এবারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘পাখিমেলা ২০২০’।’পাখ পাখালি দেশের রত্ন, আসুন করি সবাই যত্ন’ এই স্লোগানে আজ শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে ২০তম এ পাখিমেলার উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।
উদ্বোধনকালে অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, দেড় দশক ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এটি একটি সার্বজনীন মেলা। পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
দিনব্যাপী এ মেলায় অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, পাখির আলোকচিত্র ও পত্র-পত্রিকা প্রদর্শনী, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা (অডিও ও ভিডিও এর মাধ্যমে) ও পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং সব শেষে রয়েছে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
জাবির পাখিমেলায় শিশু কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আর তাইতো মেলায় শিশু কিশোরদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা।
তবে পাখিমেলা এবং শিশু কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতার সাথে একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা ফিরোজ।
তিনি বলেন, পাখির ছবি আঁকার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে পাখি ও প্রাণী সংরক্ষণের মন মানসিকতা তৈরি হবে। এ জন্যই প্রতিবার পাখি মেলায় শিশুদের জন্য পাখির ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা এই ইভেন্টটি রাখা হয়।
এছাড়াও বিগত এক বছরে গণমাধ্যমে পাখি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার তিনজন সংবাদকর্মীকে ‘কনজারভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ এবং বিগত এক বছরে বাংলাদেশের পাখির ওপর সায়েন্টিফিক জার্নাল, প্রকাশিত প্রবন্ধ পর্যালোচনা করে একজনকে ‘সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে বলে জানান আয়োজকরা।
মেলার সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ প্রাণি বিজ্ঞান সমিতি, আইইউসিএন এবং বাংলাদেশ বন বিভাগ।
উল্লেখ্য, পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০১ সাল থেকে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিকভাবে পাখি মেলার আয়োজন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।
Leave a Reply