বাংলা ফটো নিউজ : সাভারের “আদর” নামে একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে জাহাঙ্গীর (৩০) নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পৌর এলাকার রেডিও কলোনি মহল্লার ওই নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।নিহত জাহাঙ্গীর আলম ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার বুড়িকান্দি গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।
৭ মাস বয়সী এক সন্তানের জনক জাহাঙ্গীর আলম পরিবার নিয়ে সাভারের পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনীতে বসবাস করতো।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের নির্যাতনেই জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই মানিক অভিযোগ করে বলেন, গত কিছুদিন যাবত তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে এমন ধারনা থেকে তাকে মাদক থেকে ফেরাতে সাভার পৌর এলাকায় অবস্থিত ‘আদর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ নামে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হয়। পরে সেখানকার লোকজন গতকাল (১৩ ফেব্রুয়ারী) বিকালে জাহাঙ্গীর’কে তাদের নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরদিন আজ সকালে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন জাহাঙ্গীরের পরিবারকে মুঠোফোনে জাহাঙ্গীরের অসুস্থ্যতার কথা জানিয়ে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসতে বললে সেখানে গিয়ে জাহাঙ্গীরের পরিবার তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।”
নিহতের স্বজনরা আরও অভিযোগ করে বলেন, গতকাল জাহাঙ্গীরকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির পর আজ সকালে যখন নিরাময় কেন্দ্রে ফোন করে জাহাঙ্গীরের সাথে দেখা করতে চাওয়া হয় তখন নিরাময় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর সম্পূর্ণ সুস্থ্য আছে জানিয়ে ১ মাস পর তার সাথে পরিবারকে দেখা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তার আধা ঘন্টা পরই নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন জাহাঙ্গীরের পরিবাকে ফোন করে এনাম মেডিকেলে আসতে বলে। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।”
অপরদিকে এনাম মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মেরাজুর রেহান জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা দিকে জুয়েল নামে এক ব্যক্তি মৃত অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।”
এবিষয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানান, লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উদ্ধারের পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,”প্রাথমিকভাবে শারীরিক নির্যাতনের কারনে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।”
অপরদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত ওই মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply